চিলমারীতে ঝড়ে উড়ে গেল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর, খোলা আকাশের নিচে ৭ পরিবার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের মতো তীব্র বাতাস আর রাতভর ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘর। মুহূর্তের ঝাপটায় উড়ে যায় টিনের চাল। এক রাতেই মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাতটি পরিবার।

রোববার (১৭ মে) রাত ১টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের প্রকল্পের কয়েকটি ঘর। ঝড়ে উড়ে যায় টিনের চাল, লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে ঘরের আসবাবপত্রও।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো, মোছাঃ দুলালী বেগম (৩০), মোঃ আজগর আলী (৬৫), গোবিন্দ লাল (৪০), মোঃ ইনসাব আলী (৬০), মোঃ সরু মিয়া (৩৮), মোঃ ময়ান আলী (৪৫) ও মোঃ তালেব মিয়া (৪৭)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারও ঘরের টিন পড়ে আছে পাশের জমিতে, কোথাও আবার ভেঙে গেছে বাঁশের খুঁটি। বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে কাপড়-চোপড়, বিছানাপত্র ও খাদ্যসামগ্রী। ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবারগুলো। অনেকেই এখন প্রতিবেশীর বারান্দা কিংবা খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

মোছাঃ দুলালী বেগম বলেন, ‘ঝড়ের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাল উড়ে যায়। এখন ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না।’

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মোঃ আজগর আলী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কোনোমতে দিন চলে। ঘর মেরামতের টাকা নেই। সরকারি সাহায্য না পেলে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’

গোবিন্দ লাল জানান, ‘ঝড়ের সময় শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নিতেই সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছেন তিনি। এখন খাবার, ঘুম আর নিরাপদ আশ্রয় সবকিছু নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল নির্মাণের হওয়ায় সামান্য দুর্যোগেই ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ঘর মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মোঃ সানোয়ার হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।’

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here