চামড়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর হওয়ার আহ্বান এমপি মিলনের

রাজশাহী প্রতিনিধি :

 

রাজশাহী-৩ (পবা মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন, “চামড়া শিল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। পোশাক শিল্পের পরই এ খাতের অবস্থান।

অথচ কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর অসাধু চামড়া ব্যবসায়ী এতিম-গরিব মানুষের হকের ওপর লোভাতুর দৃষ্টি দেয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” শনিবার (২৩ মে) সকালে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি মিলন বলেন, “দেশে সারা বছরে যে পরিমাণ পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়, তার অর্ধেকেরও বেশি কোরবানির সময় আসে। এই চামড়ার অর্থের প্রকৃত হকদার হলো দেশের এতিম, গরিব, মিসকিন ও অসহায় মানুষ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চামড়া সিন্ডিকেটের তেলেসমাতি কার্যক্রমের কারণে দেখা যাচ্ছে চামড়া পচে গেছে, বিক্রি হয়নি, এমনকি পানির দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চান না বলে উল্লেখ করেন তিনি।”তিনি আরও বলেন, “চামড়া সংরক্ষণের জন্য সরকার বিনামূল্যে লবণ দিচ্ছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে, যেন কোনোভাবেই চামড়া নষ্ট না হয়।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

পশু বিক্রেতাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংসারের প্রয়োজনে অনেক নিম্নআয়ের মানুষ আদরের গরু-ছাগল বিক্রি করে। তারা যেন ন্যায্য মূল্য পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পশুর হাটে গিয়ে তারা যেন দালাল সিন্ডিকেটের খপ্পরে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। সেইসাথে রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, “কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে লবণ ব্যবহারের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান, হড়গ্ৰাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, পবা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ ও আব্দুল হালিম। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here