চট্টগ্রাম বন্দরের ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ চুরি, ডিবির অভিযানে ২ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

 

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল আমদানিকৃত ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার ওই চালান উধাও হয়ে যায়। ঘটনার সাতদিন পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ৫০ কার্টন পণ্য। এ ঘটনায় সামনে এসেছে বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য লোপাটকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য।

অভিযান চালিয়ে সিএমপির ডিবি বন্দর বিভাগ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাড়িচালক নীরব চৌধুরী ওরফে সাকিব ও মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নীরব চৌধুরী গাড়িচালক হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য ঢাকার আমদানিকারকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। তবে নির্ধারিত গন্তব্যে পণ্য পৌঁছে না দিয়ে তিনি সহযোগীদের নিয়ে চালানের ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ আত্মসাৎ করেন। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা হওয়ার পর অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে পাহাড়তলী এলাকা থেকে নীরব চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে বন্দরের গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যে অপর আসামি সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে ৫০ কার্টন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এ ঘটনার মূলহোতা নূর উদ্দিন তাঁর ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ফেলে পালিয়ে যান। আত্মসাতের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার ও একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করেছে পুলিশ।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযানের সময় মামলার মূলহোতা নূর উদ্দিন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নূর উদ্দিন ও তাঁর যমজ ভাই মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য চুরির সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাকখাইন এলাকায়। দুই ভাইয়ের বাবা আহম্মদ ছফা মারা গেছেন। শুরুতে তাঁরা গাড়ির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। পরে চালক হন। এরপর পণ্য পরিবহনের আড়ালে বন্দরের মালামাল আত্মসাৎ করে কয়েক বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের একাধিক কাভার্ডভ্যান রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য লোপাটে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ চক্র সাধারণত তিন ধাপে কাজ করে। একটি পক্ষ সরাসরি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকে। দ্বিতীয় ধাপে থাকা ব্রোকার চক্র চোরাই পণ্যের ক্রেতা খোঁজে। পরে চোরাই মালামাল জেনেশুনেও টেরিবাজার ও রেয়াজউদ্দীন বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সেগুলো কিনে বাজারজাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, নূর উদ্দিন ও মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। নূর উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি পাহাড়তলী থানায় দণ্ডবিধির ৪১৩/৩৪ ধারায় মামলা হয়। একই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here