ঘিওরে ঐতিহাসিক ২২নভেম্বর (তেরশ্রী) গণহত্যা দিবস পালিত

0
247
শহীদদের স্মরনে শ্রদ্ধা নিবেদন / ছবি : এই বাংলা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :


১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী গ্রামে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার স্মরণে আজ পালিত হলো তেরশ্রী গণহত্যা দিবস। স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যার সেই বেদনার দিনটি স্মরণে আজও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে সেনপাড়া জুড়ে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ওই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় দোসর রাজাকাররা পরিকল্পিতভাবে তেরশ্রী গ্রাম আক্রমণ করে। ভোরের আলো ফোটার আগেই শতাধিক পাক সেনা দালালদের সহযোগিতায় গ্রামটি ঘিরে ফেলে। শিক্ষানুরাগী, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করেছিল দালালচক্র। তাদের লক্ষ্য ছিল—তেরশ্রী গ্রামকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা।

কনকনে শীতের সকালে অতর্কিত হামলায় পাকিস্তানি বাহিনী ঘরে ঘরে আগুন দেয়, পালানোর সুযোগ না দিয়েই বৃষ্টির মতো গুলি চালায় নিরীহ মানুষের ওপর। এসময় এদেশীয় দালালরা মুখোশ পরে অংশ নেয় যাতে তাদের কেউ চিনতে না পারে। ছয় ঘণ্টার লাগাতার অপারেশনে বেয়নেট ও গুলিতে হত্যা করা হয় ৪৩ জন মানুষকে। দুপুর নাগাদ গ্রাম ছেড়ে ঘিওর সদরের দিকে চলে যায় আক্রমণকারী বাহিনী। পুরো গ্রাম তখন রক্তে ভাসছিল।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সেনপাড়া গ্রামবাসী সেই ভয়াল দিনের বিচার না পাওয়ার বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন।

শহীদদের স্মরণে ২০১১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ‘তেরশ্রী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। এটি উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম।

মানিকগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন,
“ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি আন্দোলনে তেরশ্রী গ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে।”

পয়লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন মানিক বলেন,
“২২ নভেম্বরের ভোরে পাকহানাদার ও রাজাকার-আলবদররা চারটি গ্রামে একযোগে আগুন লাগায় ও হত্যা করে ৪৩ জন নিরীহ মানুষকে। স্মৃতিস্তম্ভটি এখন তেরশ্রীর বেদনার প্রতীক।”

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শনিবার স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন। ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ তানভীর ইসলাম, ঘিওর থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহিনুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী ওয়াজেদ আলী মিস্টারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

প্রতিবেদক: মামুন মিয়া (পলাশ) – জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here