নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে দেশের ওপর শীতের দাপট আরও বেড়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওরবেষ্টিত নাসিরনগর উপজেলা সহ দেশের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো অঞ্চল।
দিনভর সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। কখনো অল্প সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তা দ্রুতই কুয়াশার আড়ালে চলে যাচ্ছে। ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার থেকে দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উপজেলায় প্রতিদিন ভোর থেকে বেলা ১১-১২টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। এর ফলে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, যার কারণে কর্মস্থলগামী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তীব্র শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুরদের ওপর। ভোরে কাজে বের হতে না পারায় অনেক শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও ইটভাটার শ্রমিকরা শীতের কারণে নিয়মিত কাজে যোগ দিতে পারছেন না।
কৃষি খাতেও শীত ও কুয়াশার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের বীজতলায় ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা বেড়েছে। পাশাপাশি কুয়াশার কারণে মাঠে কাজ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। তারা গরম কাপড় ব্যবহার, কুসুম গরম পানি পান এবং শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েকদিন ভোর ও রাতের দিকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে এবং শীত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) উপজেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ০৭ ডিগ্রি। এর আগের দিন ৬ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি। ২ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ছিল ১২ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং ১ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ১১ ও সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও কলেরা মূলত শীতজনিত রোগ। এসব রোগে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। বর্তমানে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও শীতের তীব্রতা বাড়লে রোগীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

