গাজীপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এসএসসি ফরম বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি :

 

 

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— কাঙ্ক্ষিত অর্থ না পেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখা, অর্থের বিনিময়ে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে বোর্ডের বই সংগ্রহ ও বিক্রি, বিদ্যালয়ের জমি ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে মোট ৯৩ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে গঠনিকা বিদ্যানিকেতন ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের সুযোগ দেন প্রধান শিক্ষিকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করলেও নিজ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়নি। এছাড়া কাঙ্ক্ষিত অর্থ না পাওয়ায় মানবিক বিভাগের শিহাব, মো. রিফাত এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিপুল রায়, শোভন এগ্নেসিয়াস ক্রুশ ও নিরব হোসেনের প্রবেশপত্র আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে তারা চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রিফাতের মা হোসনেয়ারা অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলের প্রবেশপত্র আসার পরও প্রধান শিক্ষিকার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় প্রবেশপত্র দেননি। এতে আমার সন্তানের শিক্ষাজীবনের একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে।”

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়ে প্রকৃত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় হাজিরা খাতায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে অতিরিক্ত বোর্ড বই সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব বই পার্শ্ববর্তী গঠনিকা বিদ্যানিকেতন, নতুন কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনসহ বিভিন্ন অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা হয়।

গত ১৭ মে নাগরী ইউনিয়নের গঠনিকা বিদ্যানিকেতন থেকে বিভিন্ন শ্রেণির দুই বস্তা বোর্ড বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র বণিক বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন না থাকায় প্রায় ১০ বছর ধরে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে বোর্ড বই সংগ্রহ, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

এছাড়াও বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণের জন্য জায়গা ভাড়া দিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো সহকারী শিক্ষক এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের শোকজসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম। তিনি বলেন,
“আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম। তাই বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে এলাকাবাসী ও কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের বোর্ড বই, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পাঁচ শিক্ষার্থীর ভুলবশত ফরম পূরণ হয়েছিল, এজন্য তাদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম আগের কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন,
“বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সচেতন মহল প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here