খাদের কিনারে এসবিসি: ৭১৫ কোটি টাকার কনফার্মেশন ধোঁয়াশা ও আর্থিক অসংগতি

মোহাম্মদ মোশার্রাফ হোছাইন খান :

নন-লাইফ বীমা ও পুনঃবীমা খাতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (SBC) বর্তমানে ভয়াবহ তারল্য সংকট এবং মারাত্মক আর্থিক অসংগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত ২০২৫ সালের চূড়ান্ত অডিট রিপোর্ট এবং এর আগের ২০২৪ সালের পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্টে স্বাধীন নিরীক্ষকদের দেওয়া ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’ (Qualified Opinion) বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের এক অস্বচ্ছ ও সন্দেহজনক আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়েছে।

হিসাব জালিয়াতি, মৃত সম্পদ দিয়ে ব্যালেন্স শিটের কৃত্রিম স্ফীতি এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের কারণে দেশের পুরো নন-লাইফ বীমা খাতেই এখন গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

আর্থিক অনিয়ম ও অসংগতির চিত্র

৭১৫.৬ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর-এর ‘সরাসরি কনফার্মেশন’ গায়েব: ২০২৪ সালের অডিট প্রতিবেদনে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে গচ্ছিত সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের স্থায়ী আমানত (FDR) এবং চলতি ব্যাংক হিসাবের বিবরণীতে ভয়াবহ অডিট ধোঁয়াশা ধরা পড়েছে। মোট ৯০৪ কোটি টাকার এফডিআরের বিপরীতে অডিটররা মাত্র ৫১৮ কোটি টাকার সরাসরি থার্ড-পার্টি ব্যাংক কনফার্মেশন পেয়েছেন, অর্থাৎ ৩৮৬ কোটি টাকার এফডিআরের কোনো ব্যাংক কনফার্মেশন নেই । এটি কেবল ব্যাংকগুলোর কনফার্মেশন পাঠাতে দেরি করার কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। অডিটররা সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়েছেন, ১১.৫৫ কোটি টাকার এফডিআরের ‘মূল কপি’ (Original Certificates) কর্তৃপক্ষের কাছে নেই এবং ৪.৩ কোটি টাকার নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ায় জিডি করা হয়েছে ।

অন্যদিকে, আর্থিক বিবরণীতে ব্যাংকে নগদ ৩৩৫ কোটি টাকা দাবি করা হলেও, অডিটররা সরাসরি ব্যাংক কনফার্মেশন পেয়েছেন মাত্র ৫.৪ কোটি টাকার । বাকি ৩২৯.৬ কোটি টাকার মধ্যে ১৭৯.৯৯ কোটি টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট অডিটরদের দেওয়া হলেও সরাসরি ব্যাংক থেকে কনফার্মেশন আসেনি। এছাড়া, ১৭.৬৪ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব দীর্ঘ ৬ মাসের বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত (Unreconciled) অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে । সুনির্দিষ্ট নথিপত্র গায়েব এবং ৭১৫.৬ কোটি টাকার (৩৮৬+৩২৯.৬) কনফার্মেশন না মেলা মূলত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের ভয়াবহ পতন এবং ফান্ড তছরুপের গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়।

১,৩৩৪ কোটি টাকার পুনঃবীমা বকেয়া (Dead Asset) ও আইএফআরএস-৯ (IFRS-9) লঙ্ঘন: ‘বীমা কর্পোরেশন আইন-২০১৯’ অনুযায়ী বেসরকারি কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসার ৫০% এসবিসির সাথে করতে বাধ্য। কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে জমে থাকা বাধ্যতামূলক এই পুনঃবীমা (Reinsurance) প্রিমিয়াম বাবদ এসবিসির অনাদায়ী পাওনার পরিমাণ পাহাড়সম আকার ধারণ করে ১,৩৩৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে । সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা এই ‘ডেড অ্যাসেট’-এর বিপরীতে ব্যালেন্স শিটে ‘কুঋণ প্রভিশন’ (Reserve for bad and doubtful debts) রাখা হয়েছে মাত্র ৬ কোটি টাকা । আন্তর্জাতিক হিসাব মান আইএফআরএস-৯ (IFRS-9) লঙ্ঘন করে এই বিশাল অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে যৌক্তিক প্রভিশন না রেখে কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে তাদের মুনাফা ও সম্পদকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে রেখেছে।

শেয়ারবাজারে ধস:ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে ১,৩৮৮ কোটি টাকার অনার্জিত ক্ষতি: পুঁজিবাজারের সামষ্টিক মন্দার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিনিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২৪ সালের অডিটে যেখানে শেয়ারের অবমূল্যায়নের কারণে ৮৭০.৭২ কোটি টাকার ‘Unrealized Holding Loss’ বা অনার্জিত ক্ষতি হয়েছিল, সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৫ সালের অডিটেও নতুন করে আরও ৫১৭.৭২ কোটি টাকার ক্ষতি যুক্ত হয়েছে । অডিটরদের তালিকা অনুযায়ী, কেবল ব্লু-চিপ নয়, বরং ‘Z’ ক্যাটাগরি এবং তালিকাচ্যুত (Delisted) দুর্বল কোম্পানিতে (যেমন- এসকে ট্রিমস, ওয়েস্টার্ন মেরিন ইত্যাদি) ফান্ডের কোটি কোটি টাকা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের কারণেই এই বিশাল অনার্জিত ক্ষতি তৈরি হয়েছে, যা ফান্ডের অপব্যবহারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় ।

বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে ধস ও ফান্ড সরানোর নিখুঁত গাণিতিক ছক (Window Dressing): একক ব্যালেন্স শিটের (Solo) ‘বিনিয়োগ’ অংশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে কর্পোরেশনের মোট বিনিয়োগ ৫,৪২৪.৭ কোটি টাকা থেকে কমে ৫,০০৬.৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে (অর্থাৎ নিট পতন কাঁটায় কাঁটায় ৪১৮.৪ কোটি টাকা)। এই হিসাব মেলাতে গিয়েই ফান্ডের এক বিস্ময়কর স্থানান্তরের চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, এক বছরেই তারা ৯৬৯.২ কোটি টাকার এফডিআর ভাঙিয়েছে । অন্যদিকে শেয়ারবাজারেও প্রায় ৮৯৩.৭ কোটি টাকার সম্পদ কমেছে। অর্থাৎ এফডিআর ও শেয়ারবাজার মিলিয়ে মোট ১,৮৬২.৯ কোটি টাকার ফান্ড অবমুক্ত হয়েছে। এই বিপুল ফান্ডের হিসাব মেলাতে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ১,৪৪৪.৫ কোটি টাকার সরকারি বন্ড কিনেছে । গাণিতিক সমীকরণটি দাঁড়ায়: (ফান্ড উত্তোলন ১,৮৬২.৯ – বন্ড ক্রয় ১,৪৪৪.৫) = ৪১৮.৪ কোটি টাকা! আর্থিক অডিটের ভাষায় সুকৌশলে ফান্ড সরানোর এই নিখুঁত গাণিতিক ছকটি স্পষ্টতই ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা হিসাবের কারসাজি।

কোর বিজনেসে ধস এবং বন্ডের সুদে মুনাফার মরীচিকা: মূল বীমা ব্যবসায় (Core Business) আক্ষরিক অর্থেই ধস নেমেছে। এক বছরের ব্যবধানে ফায়ার ইন্স্যুরেন্স খাত ৩২ কোটি টাকা এবং মোটর ইন্স্যুরেন্স ৫২ কোটি টাকার লোকসানে পরিণত হয়েছে । আন্ডাররাইটিং মুনাফা ১৭৮.৮০ কোটি থেকে ধসে ৮৬.১৭ কোটিতে ঠেকেছে ।

এরপরও প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে ৪০৯ কোটি টাকার করপূর্ব মুনাফা দেখালো? রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ধস আড়াল করতে তারা আনএক্সপায়ার্ড রিস্ক রিজার্ভ থেকে ৫২ কোটি টাকা কেটে সরাসরি আয়ে দেখিয়েছে। সবচেয়ে বড় জাদুকরী কৌশলটি হলো তাদের ‘নন-অপারেটিং আয়’, যা ২২৬ কোটি থেকে এক লাফে ৩৩৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে । এফডিআর ভাঙিয়ে ফেলার কারণে তাদের এফডিআর সুদ ১৫ কোটি টাকা কমে গেলেও, তড়িঘড়ি করে কেনা সরকারি বন্ডের সুদ (যা ১২.৩৮ কোটি থেকে বেড়ে ১২২.৫২ কোটি টাকা হয়েছে) এবং শেয়ারের লভ্যাংশের (৭৮.২৫ কোটি টাকা) ওপর ভর করে তারা এই বিশাল আয় দেখিয়েছে। অর্থাৎ, বীমা ব্যবসার বদলে তারা এখন বন্ডের সুদের ওপর টিকে আছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তীব্র তারল্য সংকট: নগদ ক্লেইম পরিশোধ কমিয়ে গ্রাহকদের ৫১৯ কোটি টাকার দাবি ঝুলিয়ে রাখা: এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত বীমা দাবি (Net Claim Incurred) প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেড়ে ৫০০ কোটি থেকে ৬০০ কোটিতে পৌঁছেছে । কিন্তু বাস্তবে গ্রাহকদের নগদ ক্লেইম পরিশোধের পরিমাণ ১১৪.৬০ কোটি টাকা থেকে উল্টো কমে মাত্র ৮০.৫৩ কোটি টাকায় নেমেছে । অর্থাৎ, পর্যাপ্ত তারল্য (Liquidity) না থাকায় এবং পুনঃবীমা আদায় করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের বৈধ দাবিগুলো মেটাতে পারছে না। ব্যালেন্স শিট অনুযায়ী, গ্রাহকদের বকেয়া বীমা দাবি (Outstanding Claims) ১,৪৩৩ কোটি টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে ১,৯৫২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে; অর্থাৎ এক বছরেই তারা গ্রাহকদের নতুন করে আরও ৫১৯ কোটি টাকার দাবি ঝুলিয়ে রেখে তীব্র তারল্য সংকটের চিত্রটি উন্মোচিত করেছে ।

অ্যাডভান্স ট্যাক্স অ্যাডজাস্টমেন্ট ও অন্যান্য জালিয়াতি:

  • ব্যালেন্স শিটের কৃত্রিম স্ফীতি হ্রাস: অগ্রিম আয়কর বা Advance Income Tax খাতে ২০২৩ সালে ৯৪৭.৪৬ কোটি টাকা দেখানো হলেও, ২০২৪ সালে তা অবিশ্বাস্যভাবে কমে ৪৮০.৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে । মূলত বছরের পর বছর ধরে মৃত সম্পদ হিসেবে জমে থাকা বিশাল অংকের এই অগ্রিম করকে তারা আয়কর দায়ের (Provision for Income Tax) সাথে কাটাকাটি (Adjustment/Netting off) করে এক ধাক্কায় ব্যালেন্স শিটের আকার ৬৩৪ কোটি টাকা কমিয়ে এনেছে ।

  • ১৬৬ কোটি টাকার স্থায়ী সম্পদের রেজিস্টার গায়েব: ব্যালেন্স শিটে ১৬৬ কোটি টাকার স্থায়ী সম্পদ দেখানো হলেও এর অস্তিত্ব ও মূল্যায়নের প্রমাণস্বরূপ কোনো ‘স্থায়ী সম্পদ রেজিস্টার’ অডিটরদের কাছে উপস্থাপন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সিএজি (CAG) অডিট আপত্তি: ২৬১.৯৪ কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যত্যয়

২০২০-২০২১ অর্থ বছরের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (CAG) অডিট রিপোর্টে ৭টি সুনির্দিষ্ট ধারায় মোট ২৬১,৯৪,২৪,৩০৪ টাকার পদ্ধতিগত ব্যত্যয় ও অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে : ১. চুক্তি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বীমা দাবি পরিশোধ: ১.৪২ কোটি টাকা । ২. সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে অনিয়মিত ডিপ্লোমা ইনক্রিমেন্ট প্রদান: ৪.১৮ কোটি টাকা । ৩. অবৈধভাবে লাঞ্চ ভাতা (সাবসিডি) বিতরণ: ৩.৪৯ কোটি টাকা। ৪. বাণিজ্যিক ভবন ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ফেলে রাখা: ১১.৯৫ কোটি টাকা । ৫. পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বকেয়া আদায় না করা (নমুনা অডিটে): ২৩৮.৫৮ কোটি টাকা । ৬. নিয়মবহির্ভূত ও শিথিল প্রক্রিয়ায় বীমা দাবি নিষ্পত্তি: ২.০০ কোটি টাকা। ৭. সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম ভ্যাট ও ট্যাক্স কর্তন: ২৭ লাখ টাকা।

৩. অর্গানোগ্রাম ও শীর্ষ নেতৃত্বের আইনি দায়বদ্ধতা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের দাপ্তরিক অর্গানোগ্রাম এবং ‘বীমা কর্পোরেশন আইন, ২০১৯’-এর ধারা অনুযায়ী কর্পোরেশনের সকল আর্থিক বিষয়াবলি পরিচালনার সম্পূর্ণ আইনি দায়ভার পরিচালনা পর্ষদ (Board) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (MD) ওপর ন্যস্ত । দিনের পর দিন ৭১৫ কোটি টাকার ব্যাংক ও এফডিআর কনফার্মেশন না পাওয়া কিংবা ১,৩৩৪ কোটি টাকার বকেয়া পড়ে থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এই মারাত্মক আর্থিক অসংগতিপূর্ণ রিপোর্টগুলোতে সরাসরি স্বাক্ষর করেছেন তৎকালীন এমডি মো. হারুন-অর-রশিদ, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং পরিচালক ড. নিখিল চন্দ্র শীল । ২০২৫ সালের রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন এমডি মো. হারুন-অর-রশিদ, চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন চৌধুরী এবং পরিচালক রহিমা বেগম।

অডিট রিপোর্টে উঠে আসা ৭১৫ কোটি টাকার ব্যাংক ও এফডিআর কনফার্মেশন না পাওয়া, তীব্র তারল্য সংকট এবং আর্থিক জালিয়াতির এসব দালিলিক প্রমাণের বিষয়ে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তারা কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বর্তমান চিত্রটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পদ্ধতিগত ধসের চূড়ান্ত রূপ। উল্লেখ্য, স্বাধীন অডিটররা তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সময়ের অভাবে তারা কেবল ‘নমুনা পরীক্ষা’ (Sample test) করেছেন। সামান্য নমুনার ভিত্তিতেই যদি ৭১৫ কোটি টাকার কনফার্মেশন ঘাটতি এবং ১,৩৩৪ কোটি টাকার বকেয়া জালিয়াতি ধরা পড়ে, তবে ধারণা করা যায় যে সর্বাত্মক ‘ফরেনসিক অডিট’ (Forensic Audit) করা হলে এই অসংগতির প্রকৃত আকার কয়েকগুণ ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং BFIU-এর মাধ্যমে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন বীমা খাত বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here