কুলাউড়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব: সীমান্তঘেঁষা কর্মধা ইউনিয়নে খাসিয়াপুঞ্জিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

0
295
কুলাউড়ায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে / ছবি - সংগৃহীত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কর্মধা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত খাসিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ রোগের বিস্তার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেল কাউন্টার চালু থাকলেও কুলাউড়া হাসপাতালে এখনো সেল কাউন্টার মেশিন নেই। এতে সিবিসি পরীক্ষায় প্লাটিলেট কাউন্ট না পাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

এদিকে জেলার প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকার অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অবহেলার কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতালের পরিচালক ডেভিড পাহান জানান, গত দুই–তিন মাসে ১২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন, বর্তমানে আরও ১৬ জন ভর্তি রয়েছেন।

গত দেড় মাসে কর্মধা ইউনিয়নের প্রায় ১৫–২০টি খাসিয়াপুঞ্জি ও আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। কুকিজুড়ি, ডলুছড়া, লবনছড়া, নুনছড়া ও কুকিবাড়ি পুঞ্জিতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় অনেকেই সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কুকিবাড়ি পুঞ্জির সিলভেস্টার পাটাং জানান, গত চার সপ্তাহে দুইজন মারা গেছেন—কুকিবাড়ির জেরবাস (৪০) এবং পাশ্ববর্তী লুথিজুড়ির তিতুশ জিব্রা (৪২)। তিনি পাহাড়ি পুঞ্জিগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারিভাবে মেডিকেল ক্যাম্প চালুর দাবি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন জানালেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় দেশে প্রবেশ এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা খাসিয়াপুঞ্জিতে ভ্রমণে আসায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া খাসিয়া শিক্ষার্থীরাও আক্রান্ত হয়ে পুঞ্জিতে ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ নভেম্বর কর্মধা ইউনিয়নে ৩০০টির বেশি মশারি বিতরণ করা হয়েছে এবং পৌরসভার উদ্যোগে শহরে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম চলছে। তবে সচেতন মহল মনে করছে, আক্রান্তের হার বিবেচনায় অনুসন্ধান, পরীক্ষা ও ব্যাপক সচেতনতামূলক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন বদলে তা এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই লার্ভা ধ্বংস, সতর্কতা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

এই বাংলা/এমএস
টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here