কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ওপর পুনরায় জরিমানা আরোপে উদ্বেগ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিমানার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের

0
64
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার্থীদের একটি ইতোমধ্যে সমাধানকৃত পত্র কোড এন্ট্রি ইস্যুতে পুনরায় জরিমানা আরোপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন। তিনি এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষা বান্ধব ও মানবিক সিদ্ধান্ত কামনা করেছেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অধ্যক্ষ জানান, ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষে কলেজটির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বে ১০৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী সোনালী সেবার মাধ্যমে ৩ হাজার ৮৭৫ টাকা ভর্তি ফি পরিশোধ করেন, যার মধ্যে পত্র কোড এন্ট্রির ফি অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে ফিশারিজ ও ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি—দুটি শাখা থাকলেও কলেজটিতে কেবল ফিশারিজ শাখার পাঠদান চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, পত্র কোড এন্ট্রির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ফিশারিজ শাখার পরিবর্তে ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি শাখার কিছু কোড এন্ট্রি হয়ে যায়। বিষয়টি দ্রুত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে লিখিত আবেদন করা হয়। পরে ২০ নভেম্বর সার্ভার খুলে দিলে সঠিকভাবে ফিশারিজ শাখার কোড এন্ট্রি সম্পন্ন করে তা ডাউনলোড ও হার্ড কপি সংরক্ষণ করা হয়। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে আর কোনো সমস্যার কথা জানানো হয়নি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তবে অধ্যক্ষের অভিযোগ, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো এক চিঠিতে পুনরায় পত্র কোড এন্ট্রির জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৬০০ টাকা এবং কলেজের জন্য ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ মোট ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন কার্ড ডাউনলোড করতে পারবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

অধ্যাপক মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “যেহেতু বিষয়টি সংশোধন করে পত্র কোড এন্ট্রি সম্পন্ন ও ডাউনলোড করা হয়েছে, তাই আমরা একে সমাধানকৃত হিসেবেই বিবেচনা করেছি। এ অবস্থায় পুনরায় জরিমানা আরোপ করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে।”

তিনি আরও জানান, কুড়িগ্রাম জেলার অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অনেকেই রিকশা বা অটো চালানো, নির্মাণ শ্রম কিংবা হোটেলে কাজ করে লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করে। এই বাস্তবতায় অতিরিক্ত জরিমানার বোঝা তাদের জন্য অসহনীয়।

অধ্যক্ষ বলেন, যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে জরিমানার অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে না, বাস্তবে কলেজের বেসরকারি খাতে আদায়কৃত অর্থ শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপরই প্রভাব ফেলে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিনের দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন, তবে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেষে অধ্যক্ষ বলেন, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা ছিল না। শুরু থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং কলেজের ১৪টি বিভাগের মধ্যে ১৩টিতেই পত্র কোড এন্ট্রি সংক্রান্ত কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি সমাধানকৃত বিষয়ে আরোপিত জরিমানা প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে এবং একটি মানবিক ও শিক্ষা বান্ধব উদাহরণ সৃষ্টি করবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here