কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তার বাবা-মা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক সেবনের দায়ে ওই যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল মজিদের ছেলে মোঃ আনারুল ইসলামকে (২৬) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন তার পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত আনারুলকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা বহুবার চেষ্টা করেছেন। মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে গেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতেন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট করতেন। বাধা দিলে হুমকি ও নির্যাতন চালাতেন।
তাদের অভিযোগ, ঈদের দিন থেকে আনারুলের আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বুধবার বিকেলে বাইরে মাদক সেবন করে বাড়িতে ফিরে তিনি তার মা ও ভাইকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করলে নিরুপায় হয়ে তার বাবা-মা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।
খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরিবারের সদস্যরা আনারুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরিবার জানায়, এর আগে দুই দফা তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা শেষে ফিরে এসে তিনি পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
পরে ফুলবাড়ী উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসাইন-এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে আনারুলের কক্ষ তল্লাশি করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিয়মিত মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন।
এর প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সন্তানকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া কোনো বাবা-মায়ের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। বহু চেষ্টা করেও ছেলেকে মাদকের ছোবল থেকে ফিরিয়ে আনতে না পেরে তারা বাধ্য হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি, একসময় আনারুল মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি এসএসসি পাস করলেও মাদকাসক্তির কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ সমাজ ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসাইন বলেন, আনারুল ইসলামের কক্ষ তল্লাশি করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

