কুড়িগ্রামে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের পরীক্ষায় গণটোকাটুকি, শিক্ষার্থী বহিষ্কার, শিক্ষক অব্যাহতি

0
130
কুড়িগ্রামে হোমিওপ্যাথি কলেজের পরীক্ষায় গণহারে নকলের অভিযোগ / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


কুড়িগ্রাম সদরের একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ফাইনাল পরীক্ষায় গণটোকাটুকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং এক শিক্ষককে পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকায় অবস্থিত কুড়িগ্রাম হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।

জানা যায়, কলেজটির প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। পাঁচটি কক্ষে মোট ২৪৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩৪ জন সকাল শিফটে এবং বাকিরা বিকেল শিফটে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছাঃ রীনু বেগমের অনুমতিক্রমে পরীক্ষার হলরুমে প্রবেশ করে দেখা যায়—ডিউটিরত শিক্ষকের সামনেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থী বোর্ড বই ও নোট গাইড দেখে পরীক্ষার খাতায় লিখছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনকে জানানো হলেও তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ সময় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটি আড়াল করারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে সাংবাদিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক ডাঃ খগেন্দ্র নাথ বর্মনকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের একটি অংশের সহযোগিতায় এ ধরনের নকলের ঘটনা ঘটে আসছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছাঃ রীনু বেগম। তিনি বলেন,
“আমি নকলের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি নিজে প্রতিটি কক্ষ পরিদর্শন করেছি, তখন কোনো শিক্ষার্থীকে নকল করতে দেখিনি। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেলের পরীক্ষায় পুরো সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে সব পরীক্ষায় আরও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here