কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা কৃষক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে কুড়িগ্রামে যেন এক নীরব কৃষি বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। মাঠের পর মাঠ বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে আর সেই সঙ্গে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন। আকস্মিক এই দুর্যোগে কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় সবকটি উপজেলায় কৃষকরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায়।

গত কয়েকদিন দিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ভারি বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বোরো মৌসুমের চাষিরা। পাকা, অর্ধপাকা ও কাঁচা,সব ধরনের ধানই এখন পানির কবলে।

কৃষকরা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ধানের জমিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বৃষ্টির মধ্যেই পাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কিন্তু অর্ধপাকা ও কাঁচা ধান নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিচু জমির অধিকাংশ ধান ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। এমনকি অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতেও পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, বৃষ্টি আর হালকা বাতাসে আমার প্রায় এক বিঘা জমির কাঁচা ধান পানিতে পড়ে গেছে। তাই কাটছি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

একই ইউনিয়নের মোঃ আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, আমার ১৩ কাঠা জমির ধান পুরোটাই পানিতে নেতিয়ে পড়েছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চর বজরা এলাকার কৃষক মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া (৭৫) বলেন, আমার পাঁচ বিঘা জমির ধান ও আট বিঘা জমির ভুট্টা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দ্রুত কাটতে না পারলে বড় ক্ষতি হবে। কিন্তু শ্রমিকের খরচ বেশি, আবার বৃষ্টি থাকলে কাটলেও শুকাতে পারব না। কী করব বুঝতে পারছি না।

কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা নদ ও ধরলা নদসহ সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনও পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তিনি আরও জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে নদীর চরাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here