কুড়িগ্রামে টানা দাবদাহে বিপর্যস্ত জনপদ, তীব্র রোদে উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

গত চারদিন ধরে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে কুড়িগ্রামের জনপদ। ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিকসহ খেটেখাওয়া মানুষজন।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মে থেকে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৯ মে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩০ মে ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি, ৩১ মে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং ১ জুনও ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও ভ‌্যাপসা গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকেই শহর ও গ্রামের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তীব্র রোদ ও গরম বাতাসে চারদিকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ নরম হয়ে উঠে আসার ঘটনাও দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যতীনেরহাট এলাকার রিকশাচালক মোঃ এজাবুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে রিকশা নিয়ে বের হই। কিন্তু অন্য দিনের তুলনায় সকাল থেকেই প্রচণ্ড গরম থাকে। দুপুরে তো বাইরে চোখ মেলে তাকানোই কঠিন হয়ে যায়। এত গরমে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর এলাকার কৃষক মোঃ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে রোদের তাপে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার পানি পান করলেও পিপাসা মেটে না। কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাই বাধ্য হয়ে মাঠে যেতে হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ কাজ করলেই মাথা ঝিমঝিম করে, বারবার বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।’

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। এ সময় বেশি করে পানি ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। খুব প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে না যাওয়াই ভালো। একান্তই বাইরে যেতে হলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করতে হবে।’

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে ৪ ও ৫ জুনের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here