কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য ঝড় বা বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো কখনো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে, যা এখন নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
সদর, চর রাজিবপুর, রৌমারী, চিলমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও রাজারহাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা বেশি ঘটছে। সামান্য বাতাস শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং ঝড় শেষে দীর্ঘ সময়েও সংযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দমকা হাওয়ায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনে পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া, দুর্বল খুঁটি, পুরোনো সঞ্চালন লাইন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এই সমস্যার মূল কারণ। অনেক এলাকায় এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো বিদ্যুৎ লাইন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলে বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে ট্রান্সফরমার ও সঞ্চালন লাইনে ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ নিয়মিত না কাটায় ঝড়ের সময় বিপর্যয় আরও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
চর যাত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. এনামুল হক বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং দীর্ঘ সময় তা আর ফিরে আসে না। এতে দৈনন্দিন কাজ ও শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
ফ্রিল্যান্সার মো. নাজমুল ইসলাম জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে নিয়মিত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ব্রহ্মপুত্র নদের হকের চর এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু বর্ষা নয়, শুষ্ক মৌসুমেও নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
গ্রাহকদের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন পরিবর্তন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিক ও দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই সমাধান প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, চলতি মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বাড়াচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. শামীম পারভেজ বলেন, বজ্রপাত ও ঝড়ের কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ট্রান্সফরমার বিকল হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
তিনি আরও জানান, গাছ ভেঙে লাইনের ওপর পড়ার ঘটনাও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। পরিস্থিতি উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

