কুড়িগ্রামে কালজানি নদীর ভাঙন আতঙ্কে দুই গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে তিনদিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেক পরিবার এখন বসতঘর সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে নদীর তীর ভাঙন। সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় নদীর স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ইসমাইল হোসেন ইউসুফ বলেন, “উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন। গত তিনদিনে নদীভাঙনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। আরও ৫০টির বেশি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।”

নদীভাঙনের শিকার মোঃ তোফাজ্জল মিয়া বলেন, “আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন আবার নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।”

মোঃ শাজাহান আলী নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “দিন-রাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।”

মোঃ মোজাফ্ফর আলী বলেন, “নদী আমাদের জমি খেয়েছে, এখন ঘরও খাচ্ছে। প্রতি বছর ভাঙনের ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়। সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ চাই, যাতে বারবার উদ্বাস্তু হতে না হয়।”

মোঃ কাশেম উদ্দিন বলেন, “এক জীবনে তিন-চারবার বাড়ি সরিয়েছি। আর কতবার সরাব? ঘর বাঁচাতে যা ছিল সব খরচ হয়ে গেছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাড়জুড়ে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। কেউ টিন খুলছেন, কেউ ঘরের খুঁটি উপড়ে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, “ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদী তীরবর্তী মানুষদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here