কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
অভাবের সংসারে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে তাঁতের কাজ শুরু করেছেন মোছাঃ জুঁই আক্তার। বাড়িতে নিজের কেনা তাঁতের মেশিনে সুতোয় নিয়মিত শাড়ি বুনছেন তিনি। স্বামী সিরাজুলের সঙ্গে যৌথ আয়ে সংসার ভরসা পাচ্ছে, আর দুই মেয়েও বাল্যবিয়ের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের এ নারীর বড় মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। জুঁই আক্তার জানান, “এহনে মেয়ে বিয়া দিমু না… পড়াশোনা শিখায় উপযুক্ত বয়সে বিয়া দিমু।”
একই গ্রামের মোছাঃ চায়না বেগমও স্বামীর কম আয়ের সংসারে টিকে থাকতে শুরু করেন তাঁতের কাজ। ঘরের জায়গা না থাকায় শাশুড়ির ঘরের এক কোণে তাঁত বসিয়ে শাড়ি তৈরি করেন তিনি। প্রতি শাড়িতে মহাজনের কাছ থেকে পান ৬৫০ টাকা। মাসে তৈরি করেন ১৮–২০টি শাড়ি। এ আয় দিয়ে তিন মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে সক্ষম হন।
চর শৌলমারী গ্রামে এভাবে বাড়তি আয়ের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে তাঁতশিল্প। আরডিআরএস বাংলাদেশের চাইল্ড নট ব্রাইড (সিএনবি) প্রকল্পের আওতায় ৫০ পরিবারের নারীরা পেয়েছেন প্রশিক্ষণ ও তাঁত মেশিন কেনার আর্থিক সহায়তা। ফলে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন তাঁরা, আর বাল্যবিয়ের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাচ্ছে কন্যাশিশুরা।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এ এলাকায় ৬০ শিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত ১৮০ পরিবার। আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাওয়ার পর অনেক পরিবার মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে।
সিএনবি প্রকল্পের সমন্বয়কারী অলিক রাংসা জানান, “বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের পরিবারের আয় বৃদ্ধি করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এতে কুড়িগ্রামে বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিবাহ আগের তুলনায় কমে এসেছে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

