কুড়িগ্রামের চিলমারী- রৌমারী নৌপথে ঈদে থাকছে বাড়তি নৌকা ও অষ্টমীর স্নান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

ঈদে কুড়িগ্রামে ঘরমুখো মানুষের পছন্দের পথ হয়ে ওঠে চিলমারী-রৌমারী নৌপথ। যানজট আর নানা ধকল এড়াতে হাজারো যাত্রীর পছন্দ এই পথ।

এবার ঈদে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত নৌকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নৌ যাত্রায় যাতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করা না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার পাশাপাশি নজরদারি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আগামী ২৬ মার্চ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহা অষ্টমী পুণ্যস্নান সফল করতে প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। লাখো পুণ্যার্থীর পুণ্যস্নান সফল করতে চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র তীরের ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, ঈদে রৌমারী-চিলমারী নৌপথে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে অতিরিক্ত নৌকা সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিয়মিত সিরিয়ালের নৌকার ছাড়াও অতিরিক্ত অন্তত ২০টি নৌকা যাত্রী পারাপারে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিলমারী নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, ‘ঈদে নিয়মিত নৌকার সঙ্গে বাড়তি নৌকা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব নৌকার বাইরেও যাত্রীরা রিজার্ভ নৌকায় পারাপার করতে পারবেন। চিলমারী-রৌমারী নৌপথের একপথে যাত্রী পাওয়া যায়।

ফিরতি পথে যাত্রী থাকে না। ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তবে আগের মতো যাত্রী প্রতি ভাড়া ২০ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

এদিকে অষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব ও সেই উপলক্ষে আয়োজিত মেলা সফল করতে কয়েকটি উপ-কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি পুণ্যস্নান উৎসবের আয়োজন বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, অষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসবে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় টিউবয়েল স্থাপন করা হবে। অস্থায়ী টয়লেট স্থাপনের পাশাপাশি পোশাক পরিবর্তনের জন্য তাবু স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তাদের আশ্রয়ের জন্য তীরবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নিরাপদে পুণ্যস্নান সম্পন্ন করতে এবং দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য নির্ধারিত তীরবর্তী স্থানে পানির গভীরতা অনুযায়ী বাঁশ দিয়ে সীমানা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সিসি ক্যামেরা দিয়ে নির্ধারিত এলাকা মনিটরিংয়ে রাখা হবে। এ ছাড়াও মাইকসহ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।

সভায় উপস্থিত কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মোঃ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘অষ্টমী পুণ্যস্নানে আসা পুণ্যার্থী ও পরিবহনে যাতে কোনও ধরনের চাঁদা আদায় করা না হয়, সেজন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। এ ছাড়া পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ টহল থাকবে।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের পরই চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র তীরজুড়ে মহা অষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব হয়। এই উৎসব চিলমারী তথা কুড়িগ্রামের ঐতিহ্য। এটি যাতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়মিত টিমের সঙ্গে ডুবুরি দল থাকবে। স্পিডবোটের মাধ্যমে নদীতেও টহলের ব্যবস্থা রাখা হবে। তবে শুধু প্রশাসন ও পুলিশ দিয়ে এতো বড় আয়োজন সফল করা কষ্টসাধ্য।

এজন্য সব অংশীজনের সহায়তা প্রয়োজন। আমরা সবার সহায়তা কামনা করছি। এরপরও যেকোনো পরামর্শ কিংবা অভিযোগ থাকলে তা আমাদের জানালে আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।’

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here