কুড়িগ্রামের চার আসনে নির্বাচন জমে উঠছে: বিএনপি, জামায়াত ও আটদলীয় জোটে জটিল সমীকরণ

0
149
কুড়িগ্রামের ৪টি আসনের মধ্যে ১টিতে স্বস্তিতে বিএনপি, ৩টিতে অস্বস্তিতে বিএনপি / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জনসংযোগ চালাচ্ছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ নির্বাচনমুখী দলগুলো। আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকলেও বিএনপি স্বস্তিতে নেই—কারণ ‘আটদলীয় জোট’, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) উপস্থিতি নির্বাচনে নতুন হিসাব তৈরি করেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রামের আসনগুলো আওয়ামী লীগ ও জাপার দখলে থাকলেও এবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত। যদিও জাপার নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত।

এলাকাজুড়ে ইতোমধ্যে প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানার, ফ্যাস্টুনে ছেয়ে গেছে। চলছে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও তোরণ নির্মাণ। বিভিন্ন দলে দলে ভোটের শক্তি–সমীকরণও নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ।

নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-১ আসনে তিনদিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সাইফুর রহমান রানা—যার নিজস্ব ভোটব্যাংক থাকলেও দলীয় কোন্দল ও জাপা নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিএনপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পাঁচবারের এমপি মোস্তাক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটও নিজের দিকে টানতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হারিসুল বারি রনিও নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাপা নির্বাচনে না গেলে আওয়ামী লীগ–জাপার ভোট কোন দিকে যাবে—তা নির্ধারণ করবে পুরো সমীকরণ।

সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। স্থানীয় ভোটারদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা আছে।

এখানে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী সরকারের প্রচারণাও বেশ সক্রিয়। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নূর বখত মিয়া ও এনসিপির ড. আতিক মুজাহিদও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
জাপা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন না করলে তাদের সমর্থক ভোট বিভিন্ন প্রার্থীর ভাগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একটি মাত্র উপজেলা—উলিপুর—নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩ আসনে দলীয় বিভক্তি বিএনপির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক জেলা সভাপতি তাসভীর উল ইসলাম। অন্যদিকে মনোনয়ন না পাওয়া আব্দুল খালেকের সমর্থকরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

বিএনপির এই বিভক্তির সুযোগ নিতে পারে জামায়াতের ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী অথবা ইসলামী আন্দোলনের ডা. আক্কাছ আলী সরকার। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুস সোবহানও নির্বাচন সরগরম করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, ‘আটদলীয় জোট’ এখানে একক প্রার্থী দিলে বিএনপির জন্য আসনটি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর নিয়ে গঠিত আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আপন দুই ভাই।
জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর বড় ভাই আজিজুর রহমান, যিনি বিএনপির প্রার্থী। ফলে পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিভক্তি ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইসলামী আন্দোলনের হাফিজুর রহমানও এলাকায় সক্রিয়। জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী সাইফুর রহমানের তেমন প্রচারণা দেখা না যাওয়ায় তাদের উপস্থিতি দুর্বল।

বিএনপির ভেতর বিভক্তি জামায়াতকে সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

জামায়াতের কুড়িগ্রাম জেলা আমির আজিজুর রহমান স্বপন জানিয়েছেন, চারটি আসনেই ভোটের মাঠ তাদের পক্ষে তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ আশা করছেন, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ থাকলেও চার আসনই বিএনপি জিতবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here