কুড়িগ্রামের উলিপুরে ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের আহাজারী

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর ভাটিগ্রামে ক্যান্সার আক্রান্ত চার বছর বয়সী মোঃ রেদওয়ান ইসলাম রাব্বী ও তার পরিবার / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় ক্যান্সার আক্রান্ত একমাত্র ছেলের চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ করতে না পেরে অসহায় এক মা বারবার মুর্চ্ছা যাচ্ছেন। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। বুকফাঁটা কান্নায় সজল হয়ে উঠছে প্রতিবেশীদের চোখমুখ। পরিবারের দাবি, ছেলের চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর ভাটিগ্রামের দিনমজুর পরিবারের সন্তান মোঃ আলম বাদশা ও তার স্ত্রী মোছাঃ রুপালী বেগম। সংসারে কন্যা সন্তানের পর জন্ম হয় মোঃ রেদওয়ান ইসলাম রাব্বীর। এক মেয়ে আর এক ছেলে পেয়ে আনন্দে ছিল পরিবারটি। কিন্তু সাড়ে ৪ বছরের রাব্বী ছোটবেলা থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছে। আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে রাব্বীর চোখ। রাব্বীকে দেখলে মনে হয় যেন চক্ষু কোটর থেকে চোখ টিকরে বের হয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারটি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান। সেখানে চোখে ক্যান্সার আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অথৈই সাগরে পড়েছে পরিবারটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন ছেলের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দরকার। নিজেদের কোনো অর্থ না থাকায় সন্তান হারানোর আশঙ্কায় বারবার মুর্চ্ছা যাচ্ছেন অসহায় মা।

বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে দেখিয়ে শেষে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে গেলে তারা ক্যান্সার আক্রান্তের বিষয়টি সন্দেহ করেন। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ পেডিয়াট্রিক হেমাটোরজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রফেসর ডাঃ আনোয়ারুল করিমের তত্ত্বাবধানে রাব্বীর চোখে ক্যান্সার আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। ঢাকায় দুই সপ্তাহ অবস্থান করার পর অপারেশনের জন্য অর্থ না থাকায় শূন্য হাতে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় আলম বাদশা ও রুপালীর। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। কিন্তু কিভাবে অর্থ সংগ্রহ করবেন তারা। ৬ শতকের বাড়িভিটা ছাড়া বিক্রি করার মতো কোনো জমিজমাও নেই তাদের। ফলে সরকারি-বেসরকারি দাতা সংস্থা, বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসী ভাইদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন এই পরিবার ও তাদের প্রতিবেশীরা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ভাটি গ্রামের মনছুর আলী, সাইবেনি, নুরুন্নাহার ও ফাতেমা বেগম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ ও তার খালপাড়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে এখানকার পরিবারগুলো। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। তারপরও গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে ফুটফুটে ছেলেটির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসে। কিন্তু এখন যে অংকের টাকা চিকিৎসার জন্য লাগছে, তা এখানকার কারো পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে অর্থের অভাবে অকালেই ছেলেটি মারা যেতে পারে। এজন্য দরকার দেশ ও-বিদেশের দাতা ব্যক্তিগণের সহায়তা। একমাত্র তারাই পারেন এই ফুটফুটে ছেলেটির পাশে দাঁড়াতে।

রাব্বীর দাদা মোঃ ফয়জার আলী ও দাদী মোছাঃ আছিয়া বেগম বলেন, হামার কলিজাটা ফাটি যাবার নাগছে। গরিব মানুষ, হামার কোন পয়সা-কড়ি নাই! কি দিয়া বাচামো ছওয়াটাক!

রাব্বীর মা মোছাঃ রুপালী বেগম বারবার মুর্চ্ছা যাচ্ছিল। কোন কথাই শেষ করতে পারছিল না সে। বাবা আলম বাদশা বলেন, ছেলেকে বাঁচাতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দরকার। এত টাকা কোথায় পাব! অসহায় ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকে সে। দীর্ঘশ্বাস চেপে বলেন, আল্লাহর রহমত আর বৃত্তবানরা পারেন আমার সন্তানকে বাঁচাতে।

সামর্থ্যবানদের রাব্বীর বাবা মোঃ আলম বাদশার বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরে (০১৯৩০৬২৯১৯০) টাকা পাঠানোর অনুরোধ করছে শিশুটির পরিবার।

বিষয়টি নিয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, রেদওয়ানের ক্যান্সার আক্রান্তের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমরা তদন্ত সাপেক্ষ ছেলেটির চিকিৎসার জন্য সরকারি বিধি মোতাবেক দ্রুত অর্থ সহায়তা দিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here