কুড়িগ্রামের উলিপুরে অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ছে ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই হাট সংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ইটভাটার কারণে ফসলি জমি পুড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, SMB নামের ওই ইটভাটার আশেপাশে প্রায় ২৫০০ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১২০০ শতক জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটাটি স্থাপনের জন্য প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোদন নেই। এছাড়া ভাটাটির আশেপাশে রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। ভাটাটির আনুমানিক ১৭০ মিটারের মধ্যে গোড়াই রঘুরায় উচ্চ বিদ্যালয়, ১৫০ মিটারের মধ্যে গোড়াই হাট পূর্ব নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা, ১০০ মিটারের মধ্যে মারকাযুল উলুম মহিলা মাদ্রাসা, ২০০ মিটারের মধ্যে গোড়াই হাট বাজার এবং ১০০ মিটারের মধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম অবস্থিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে এই ভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকের ছেলে মোঃ রোহান মিয়া বলেন, “আমার বাবা ৩০ শতক জমিতে যে ধান পাই, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। কিন্তু এই ভাটা আমাদের জীবিকার ওপর আঘাত হানছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং অবিলম্বে ভাটা বন্ধের দাবি জানাই।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

পুড়ে যাওয়া জমির মালিক মোঃ মিনহাজুল ইসলাম জানান, “আমার ২৮ শতক জমি পুড়ে গেছে। ভাটার মালিক কোনো ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন না। বারবার এমন হলে আমরা খাবো কী? আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী বলেন, “এই ভাটাটি শুধু অবৈধ নয়, বরং সব ধরনের নিয়ম-নীতির সীমা অতিক্রম করেছে। ভাটার মালিক প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ভাটা চালাচ্ছেন। যদিও তার এমন বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রণয় কুমার বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ধারণা করছি, ভাটার গরম ধোঁয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে। কৃষকদের প্রাথমিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ধানের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে, বাকিটা নির্ভর করছে প্রাকৃতিক অবস্থার ওপর।”

ভাটার মালিক মোঃ নুর ইসলাম বাচ্চুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here