ডেস্ক নিউজ :
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শনিবার গভীর রাতে রাশিয়া ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং পনেরো জন আহত হয়েছেন। শহরের বড় একটি অংশ এখনো বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো জানান, পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করেছে, রাতভর বিভিন্ন এলাকায় ১০০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার কারণে কিয়েভের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলেই দ্রুত গ্রিড মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি গ্যাস পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেখানে ৮৩ বছর বয়সী এক নারী আহত হলেও ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শহরের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ওই অঞ্চলে অন্তত ১২টি শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেলগোরোদ, রোস্তভ, ক্রিমিয়া, রিয়াজানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১০৩টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
রুশ ব্যাটলগ্রুপ ‘সাউথ’-এর মুখপাত্র ভাদিম আস্তাফিয়েভ দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অন্তত ২৩০ সেনা নিহত হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমা নির্মিত তিনটি সাঁজোয়া যানসহ একাধিক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, সেভেরস্ক ও ক্রামাতোরস্ক দিকের আক্রমণে ইউক্রেনের ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, স্টারলিংক টার্মিনাল এবং বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যান্টেনায় লক্ষ্যভেদ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্থল রোবোটিক সিস্টেম ও ডাগআউট ধ্বংসের কথাও দাবি করেছে রুশ সেনারা।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। কিন্তু সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতের জন্য দেশটির প্রস্তুতিও জরুরি।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ও ইইউ–এর ‘অস্বাভাবিক’ সামরিক প্রস্তুতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

