কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও খুরারোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। খামারি ও স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ দিনে এসব রোগে শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে সহস্রাধিক গবাদিপশু। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে তারা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক না পেয়ে গ্রাম্য পশু চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলার হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, ধরণীবাড়ী ও ধামশ্রেণী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রোগটির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আক্রান্ত গরুর শরীরে গুটি, ঘা, জ্বর, দুর্বলতা ও খাদ্যে অরুচির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে খুরারোগও একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ধামশ্রেণী ইউনিয়নের খাওনার দরগা গ্রামের খামারি মো. জামাল উদ্দিন জানান, তার ১৬টি গরুর মধ্যে পাঁচটি মারা গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আরও অনেক খামারি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সুরিরডারা গ্রামের খামারি মো. মোস্তা মিয়া বলেন, তার একটি বাছুর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করানোর পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদমতলা, কাশিয়াগাড়ী, ভদ্রপাড়া ও কুড়ারপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক খামারির গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। রোগের বিস্তার নিয়ে আতঙ্কে অনেকেই কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উলিপুর আদর্শ কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আমার খামারেও রোগের প্রভাব পড়েছে। ভবিষ্যৎ ক্ষতির আশঙ্কায় কয়েকটি গরু রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”
গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. বাদল মিয়া জানান, প্রতিদিন বহু আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা করতে হচ্ছে। লাম্পি রোগের পাশাপাশি খুরারোগও ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
তবে স্থানীয় খামারিদের একটি অংশের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও পরামর্শের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তারা আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প, পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক টিম গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রেবেকা বেগম বলেন, “লাম্পি রোগ বর্তমানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ভ্যাকসিনের সংকট ছিল। পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণেও মাঠপর্যায়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিপরীতে জনবল খুবই কম। তারপরও সচেতনতা বৃদ্ধি, উঠান বৈঠক এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খামারিদেরও সময়মতো টিকা প্রদান ও রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সচেতন হতে হবে।”
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা খামারিদের আক্রান্ত পশু দ্রুত আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

