কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রাম জেলার খামারিরা। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু-মহিষসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, এবার কোরবানির জন্য দেড় হাজার কোটি টাকার ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৪টি, মহিষ ১ হাজার ৬১৯টি, ছাগল-ভেড়া ২ লাখ ১৮ হাজার ৪০৪টি এবং গাড়ল ২২টি। কুড়িগ্রাম জেলায় গবাদিপশুর চাহিদা ২ লাখ ৬১ হাজার ২৪৬টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় ৭৫ হাজার ৬৭৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে। কুড়িগ্রাম জেলায় খামারি রয়েছেন ২৬ হাজার ৭৮৩ জন।
খামারিরা জানান, লোকসানের ভয়ে এবার বড় গরু লালনপালন কমিয়ে মাঝারি আকারের গরুর দিকে ঝুঁকেছেন তারা। এক থেকে আড়াই লাখ টাকার গরু তিন থেকে সাড়ে তিন মাস লালনপালন করে বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। বড় গরুর স্থানীয় চাহিদা না থাকায় ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রামের পাইকারদের অপেক্ষায় থাকতে হয়, এতে খরচ বেড়ে যায়।
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার চর বড়াইবাড়ী এলাকার খামারি মোঃ শফিকুল ইসলাম (৩৬) বলেন, এক বছর আগে লিবিয়া থেকে বাড়িতে ফিরে মাত্র ৩ লাখ টাকা দিয়ে দুটি গরু কিনে খামার শুরু করি। এখন খামারে ১৫ থেকে ২০টি গরু রয়েছে। এবার ঈদে বেশ কয়েকটি গরু প্রতিটি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আলামিন মিয়া (৫০) বলেন, খামারে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। মোঃ শফিকুল ইসলাম অনেক পরিশ্রম করে। বাজারে গরুর বিক্রি করে ভালোই লাভ করে। আমাদের এখানে আগে কয়েকটি খামার ছিলো, এখন কমে গেছে। যদি সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিতো তাহলে বেকার যুবকরা খামার করে লাভবান হতো।
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার খামারী মোঃ আতিকুর রহমান (৫৫) বলেন, কয়েক বছর ধরে গরু লালন পালন করছি। প্রতি কোরবানি ঈদ আসলেই গরু বিক্রি করি। এবারে বাজারে পশুর চাহিদা ভালো থাকলে লাভের মুখ দেখবো।
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার খামারকর্মী মোঃ আব্দুল বারী সরকার বলেন, আমাদের খামারের গরু-ছাগল রোগমুক্ত। প্রতিনিয়ত ঘাস, ভুট্টা, খড়সহ প্রাকৃতিক খাবার দেওয়া হয়। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের আগে হাটবাজারে মেডিকেল টিম দিয়ে গবাদিপশু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রেতারা যেন সুস্থ ও সবল পশু কিনতে পারেন এবং বিক্রেতারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে বিষয়েও প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

