নীলফামারী প্রতিনিধি :
নীলফামারীতে সংরক্ষিত আলুর বাজারদর একেবারে তলানিতে নেমে যাওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হিমাগার মালিকরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয়ের তুলনায় আলুর দাম কমে যাওয়ায় জেলার ১১টি হিমাগারে মজুদ থাকা প্রায় ৯৫ হাজার মেট্রিক টন আলু নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার মেট্রিক টনই কৃষকদের মালিকানাধীন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
কৃষকদের অভিযোগ—জমিতে উৎপাদন থেকে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি কেজি আলুর খরচ পড়েছে ২৮–২৯ টাকা। অথচ বাজারে এখন ভালো মানের আলুও বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭–১০ টাকা কেজিতে।
কৃষক মোস্তফা ইসলাম বলেন, “২২ টাকা খরচ করে আলু তুলেছি, এখন ৮–১০ টাকায় বিক্রি করছি। লোকসানে ডুবে আছি।”
কৃষক জিয়ারুল হক জানান, “দাম এমন থাকলে আগামী মৌসুমে অনেকেই আলুচাষ বন্ধ করতে বাধ্য হবে।”
সংরক্ষণ ব্যয়ের বোঝা সামলাতে হিমাগারভিত্তিক ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে। প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) আলু রাখতে তাদের খরচ হয়েছে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। কিন্তু বাজারে এখন সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪৫০–৬৫০ টাকায়।
উত্তরা হিমাগারের ব্যবস্থাপক নিরদ চন্দ্র রায় বলেন, “১ লাখ ১৫ হাজার বস্তার মধ্যে এখনো ৭৫ হাজার বস্তা বের হয়নি। জায়গা খালি না হওয়ায় খরচ আরও বাড়ছে।”
এদিকে বাজার মন্দার সুযোগে নতুন বিতর্কও দেখা দিয়েছে হিমাগারগুলোতে। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে—চুক্তির মেয়াদ ১৫ নভেম্বর শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন হিমাগার মালিক কৃষকদের আলু গোপনে বিক্রি করেছেন। সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, চুক্তির আগে কোনো আলু বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান বলেন, “খুব শিগগিরই নতুন আলু বাজারে আসবে। দাম কিছুটা সমন্বয় হলে কৃষকেরা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

