পিরোজপুর প্রতিনিধি :
বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে পিরোজপুর জেলা ঔষধ প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
“এখনই কাজ করুন, আমাদের বর্তমানকে রক্ষা করুন—আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার বিকেল ৪টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক রাহুল কৃষ্ণ রায়ের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সদস্যরাও অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। জীবাণুর অস্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় সাধারণ রোগও কঠিন হয়ে উঠছে। একসময় সহজে নিরাময়যোগ্য সংক্রমণ, যেমন—টাইফয়েড ও যক্ষ্মা—এখন শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশেও পড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সচেতনতা সপ্তাহ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের অংশ হওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বা ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন ঝুঁকি বাড়ায়; তাই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
প্রশাসন ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে বলেও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
বক্তাদের মতে, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

