অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয় এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার অষ্টগ্রাম সরকারি রটারি ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনিয়মের প্রমাণ মিললে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আরিফ খান।
সরকারি সহায়তার জন্য প্রস্তুত করা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সমালোচনা শুরু হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আটটি ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার ৪ জন কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যারা মারা গেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন অথবা কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকস্মিক বন্যায় তাদের ব্যাপক ফসলহানি হলেও তারা সরকারি সহায়তার তালিকায় স্থান পাননি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রকৃত চাষিদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে অনেক অযোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ ও তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে। তিনি মনে করেন, সেচ প্রকল্পভিত্তিক কৃষকদের তথ্য ব্যবহার করা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হতো।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

