অষ্টগ্রামে ‎আদালতের আদেশ অমান্য করে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

‎কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের অন্ধকারে সংখ্যালঘু একটি পরিবারের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

‎ঘটনাটি ঘটে ৪ এপ্রিল (শনিবার) ভোর রাতে, উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন দাসপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী সুধীর দাস (৫০) পিতা মৃত সুবোধ দাস অভিযোগ করেন, একই এলাকার মিজানুর রহমান (৪৩), দুলাল (৫৫) ও কাউসার (৩৫) গং পিতা আব্দুর রহমান পরিকল্পিতভাবে আদালতের আদেশ অমান্য করে টিনসেড দিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ করে তাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়।

‎ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে ১৫৫৯ নং এওয়াজ বদল দলিলের মাধ্যমে কাস্তুল মৌজার এস.এ ২৯০ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। জমিটি মূলত স্থানীয় জমিদার পরিবারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ক্রয় করা হয়।

‎অন্যদিকে অভিযুক্তরাও জমিদার পরিবারের অন্য অংশ থেকে কিছু জমি ক্রয় করে। তবে তারা এখন সংখ্যালঘু পরিবারের জমির একাংশ নিজেদের দাবি করে দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

‎এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সুধীর দাস আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উক্ত সম্পত্তির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

‎কিন্তু সেই আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অভিযুক্তরা ভোর রাতে টিনসেড দিয়ে ঘেরাও করে সম্পত্তি দখলে নেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের জমি বে-দখল হয়ে গেছে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন সুধীর দাস ও তার পরিবার। পরে তারা অষ্টগ্রাম থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউসার অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে, তবে আমরা আমাদের প্রয়োজনেই আমাদের জায়গায় বাউন্ডারি দিয়েছি। তবে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

                      অভিযুক্ত মিজানুর রহমান

‎অন্যদিকে অষ্টগ্রাম থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান,‎খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
‎তিনি আরও স্বীকার করেন, প্রাথমিকভাবে এটি ১৪৪/১৪৫ ধারা অমান্যের ঘটনা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

‎‎স্থানীয়দের মতে, আদালতের সরাসরি আদেশ থাকার পরও এভাবে রাতের আঁধারে জমি দখল আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।

এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here