অর্থসংকটে থমকে ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ, অনিশ্চয়তায় হাজারো পরিবার

বরিশাল প্রতিনিধি :

 

বরিশালের সঙ্গে কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দরের রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প অর্থায়নের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি পাচ্ছে না। প্রায় ২১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত হলেও প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হওয়ায় নির্মাণকাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দক্ষিণাঞ্চলকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।

প্রস্তাবিত রেলপথটি ভাঙা থেকে শুরু হয়ে গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী অতিক্রম করে কুয়াকাটায় পৌঁছানোর কথা। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলোর অনেক বাসিন্দা বছরের পর বছর ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। রেলপথের সম্ভাব্য ভূমি অধিগ্রহণ এলাকার বহু বাড়িঘর ও জমিতে চিহ্নিতকরণ করা হলেও এখনো অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিপূরণ পাননি। এ কারণে তারা জমি বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা স্থায়ী উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকায় তারা নানা ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ বাড়ি সংস্কার করতে পারছেন না, আবার কেউ প্রয়োজনের সময় জমি বিক্রি করতেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার ৬০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই রেলপথে ১৯টি স্টেশন ও একটি জংশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে দীর্ঘসূত্রতা, মূল্যস্ফীতি এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সম্ভাব্য ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে তার ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় প্রকল্পের আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনতে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় না রেখে দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান অথবা ভূমি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। উন্নয়ন সহযোগী বা ঋণ সহায়তা পাওয়া গেলে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প এবং পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত এই রেলপথ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here