কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকার সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে অবৈধভাবে কারেন্ট শক ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ শক মেশিন, ব্যাটারি ও মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১১টা থেকে বুধবার (১০ জুন) ভোর ৩টা পর্যন্ত দুধকুমার নদ এবং কচাকাটা থানার সীমান্তবর্তী গঙ্গাধর, সংকোশ ও ব্রহ্মপুত্র নদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু জেলে রাতের আঁধারে ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক শক মেশিন ও জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছিল। এতে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে, যা নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে কচাকাটা থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা নদীতে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে একাধিক কারেন্ট শক মেশিন, ব্যাটারি ও মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এএসপি মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধভাবে কারেন্ট শক দিয়ে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একসময় এসব নদীতে মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু ধ্বংসাত্মক এ পদ্ধতিতে মাছ ও জলজ প্রাণী নিধনের ফলে স্বাভাবিকভাবে মাছের উৎপাদন কমে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখনই সচেতনতা সৃষ্টি না করলে ভবিষ্যতে নদীগুলো থেকে অনেক প্রজাতির জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

