অতিবৃষ্টি ও দাম পতনে চিলমারীর ভুট্টাচাষিরা দিশেহারা, লোকসানের শঙ্কা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাজারে ভুট্টার দামের ব্যাপক পতনের কারণে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ভুট্টাচাষিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় অনেক কৃষক এখন লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমজুড়ে টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে ভুট্টাক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছ সময়ের আগেই হেলে পড়ে এবং সার প্রয়োগ ও পরিচর্যায়ও বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে।

চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বজরাদিয়ার খাতা চর এলাকার কৃষক মো. মাহফুজার রহমান জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করলেও আবহাওয়ার কারণে ফলন কম পেয়েছেন। বর্তমানে বাজারে দাম কম থাকায় বিক্রি না করে ভুট্টা সংরক্ষণ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা উৎপাদনে প্রায় ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা খরচ হলেও বর্তমানে প্রতি বিঘায় গড়ে ৬০ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়, ফলে লাভের পরিমাণ খুবই সামান্য।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে চিলমারীতে প্রায় ২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। কৃষকদের ভুট্টা ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে আগাম আমন ধান, পাট ও সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে আগেভাগেই ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাজারমূল্যও কম থাকায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পশ্চিমা লঘুচাপ ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ুর প্রভাবে চলতি বছর উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা কৃষিখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজার অস্থিরতার দ্বৈত চাপে চিলমারীর ভুট্টাচাষিরা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here