
সিলেট ব্যুরো :
সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-র অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ নাহিদ নিয়াজ ও কম্পিউটার অপারেশন ইনস্ট্রাক্টর মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকদের উপর প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছেন। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয় টিটিসিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ওই কেন্দ্রের সাথে বিশেষ কাজে সৌদি আরব যেতে ‘তাকামুল সনদ’ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিক মুহিব আহমদকে ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুক ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখেন। মুহিব অবগত করায় অধ্যক্ষ শেখ নাহিদ তাঁকে টিটিসির প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেন। এরপর অধ্যক্ষ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে ঘোষণা করেন, টিটিসিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে সাংবাদিককে অবশ্যই এক দিন আগে অনুমতি নিতে হবে।
সিলেট টিটিসি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও সৌদি প্রবাসীর জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেন্দ্রের সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে কম্পিউটার অপারেশন ইনস্ট্রাক্টর মো. ওমর ফারুক ২০০৮ সাল থেকে টিটিসিতে কর্মরত, ২০২২ সালে বদলীর আদেশ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় পদে বহাল রয়েছেন।
দুর্নীতির অভিযোগ অনুযায়ী, তাকামুল সনদ সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত দক্ষ শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় বলে প্রদর্শিত হন, যেখানে স্বল্প দক্ষ বা পরিচিত ব্যক্তিরা চ্যানেলের মাধ্যমে সহজে সনদ পান। এছাড়া ইনস্ট্রাক্টর ও অন্যান্য কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যকে নিয়ন্ত্রণ ও অপব্যবহার করে থাকেন।
স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, সিলেট টিটিসি’র অধ্যক্ষ ও ক্ষমতাধর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে—দুর্নীতি, অসদাচরণ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রবাসী জনগণের সঙ্গে অব্যবস্থাপনা।
সিলেটের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে সাংবাদিক স্বাধীনতার প্রতি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং টিটিসির প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
