
বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশাকে ৬ দিন এবং তাঁর স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার স্বামী–স্ত্রীকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত আয়েশার ৬ দিন ও তাঁর স্বামীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন আদালতের সহকারী পিপি হারুন-অর-রশিদ।
গত বুধবার সাভার থেকে রাব্বিকে এবং ঝালকাঠির নলছিটি থেকে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৮ ডিসেম্বর সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ১৪ তলা ভবনের ৭ তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়া (১৫)–কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মৃত লায়লা আফরোজের স্বামী, স্কুলশিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম, সেদিন রাতেই গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এজাহার অনুযায়ী— সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে আয়েশা কাজ করতে বাসায় প্রবেশ করেন। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পালানোর সময় তিনি একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, টাকাসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস নিয়ে যান।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে— গ্রেপ্তারের পর আয়েশা খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার মূল উদ্দেশ্য, পেছনে অন্য কেউ আছে কিনা, এবং চুরি হওয়া জিনিসপত্র সম্পর্কে তথ্য জানতেই রিমান্ড প্রয়োজন। আয়েশার স্বামী রাব্বিরও এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দুই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা আশা করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার মূল রহস্য, উদ্দেশ্য এবং অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না—সব তথ্যই স্পষ্ট হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
