বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি :
বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচি’-এর আওতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, কার্যক্রমে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের রুটি, বিস্কুট, ডিম, কলা ও দুধ প্রদান করা হচ্ছে। চারটি উপাদানের মধ্যে প্রতিদিন অন্তত দুটি দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, বরিশাল বিভাগের ৮ উপজেলায় দুধ ও বিস্কুট এখনও সরবরাহ করা হয়নি। এছাড়া, বিতরণে বিলম্ব, আগের দিন সেদ্ধ করা ডিম, অতিরিক্ত পেকে যাওয়া বা খারাপ কলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে খাবার পৌঁছানোর কারণে প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বানারীপাড়া উপজেলার শিক্ষকরা অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, রুটি ও কলার মান নিম্ন, বিষ্ঠাযুক্ত ডিম বিতরণ করা হচ্ছে, এবং অনেক বিদ্যালয়ে রাত ১০টায় খাবার পৌঁছে পরের দিন বিতরণ করতে হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, খাদ্য বিতরণ ঠিকমতো না হওয়ায় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
খাদ্য বিতরণের জন্য বরিশাল-১ প্যাকেজে আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড ঠিকাদার হিসেবে নিয়োজিত। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের একটি কোম্পানি। ৮ উপজেলায় ১,২৪৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৫১ শিক্ষার্থীকে খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত। তবে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণের সময় অনিয়ম ও অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, বিতরণ শুরু হওয়ার সময় কিছু সমস্যার কারণে অনিয়ম হয়েছে। তিনি স্থানীয় বিতরণকারীদের দায়ী করছেন এবং প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পরিবর্তনের কথা বলেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর স্বাস্থ্যসম্মত বিকাশে ছয় প্রকার সুষম খাদ্য অপরিহার্য। ডিম ও দুধে প্রোটিন ও খনিজ, বনরুটি ও বিস্কুটে শক্তি, কলায় ভিটামিন থাকে। খাদ্যের মান না থাকলে নিয়মিত খেলে শিশুর শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সময়মতো এবং মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার পায়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

