নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তৃণমূলভিত্তিক জনপ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবির জোর ক্রমেই বেড়ে চলেছে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মী তার পুনর্বহাল চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের মতে, বরগুনায় বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অ্যাডভোকেট হালিমের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে তিনি অসংখ্য নতুন নেতাকর্মী তৈরি করেছেন এবং রাজনৈতিক কঠিন সময়ে সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তৃণমূল নেতারা জানান, আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। তিনি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। অসংখ্য মামলার আসামি হলেও কখনো দলত্যাগ বা আপস করেননি।
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বরগুনা জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অনুরোধে অ্যাডভোকেট হালিম ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে দলীয় নীতির পরিপন্থি হওয়ায় তার সব পদ স্থগিত ও প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হয়। তৃণমূলের দাবি, এটি পরিস্থিতিগত সিদ্ধান্ত ছিল, যা দলবিরোধী নয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, “আন্দোলন-সংগ্রামে অ্যাডভোকেট হালিমের অবদান অনস্বীকার্য। তাকে দলে ফিরিয়ে আনা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।”
বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তালিমুল ইসলাম পলাশ যোগ করেন, “দলের ঐক্য বজায় রাখতে অ্যাডভোকেট হালিমের সদস্যপদ পুনর্বহাল করা উচিত।”
অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম নিজে বলেন, “জেল-জুলুম, হামলা-মামলা মোকাবিলা করেও কখনো দল থেকে সরে যাইনি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা পরিস্থিতির চাপের কারণে হয়েছিল। সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করেছি এবং দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগ বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত আশা করছি।”
দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, হালিমকে পুনর্বহাল করা হলে বরগুনা জেলা বিএনপিতে নতুন গতি ও ঐক্য ফিরে আসবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

