নাসরিন আকতার :
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরচারী শাষক আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা দেশ থেকে পলায়ণের পর বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর নির্বাচনকালীন রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপালকারী বিসিএস (প্রশাসন) ও জেলার পুলিশ প্রশাসনের কমকর্তাদের মধ্যে অধিকাংশকেই তাদের শাস্তিস্বরুপ চাকুরীচুত্য, অবসরে অথবা ওএসডি করা হয়েছে। অথচ স্বৈরচারী শাসকের এলজিইডির সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের আস্থাভাজন আর্শিবাদপুষ্ঠ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতারা অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয়দের ম্যানেজ করে তারা বহাল তবিয়তে স্বপদে আছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ পর থেকেই শুরু হয় প্রসাদ যড়যন্ত্র। সরকারকে বেকাদায় ফেলার জন্য একটি কুচক্রিমহল ও এলজিইডি শাখার বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্যরা মিলে পতিত আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভোলপাল্টিয়ে সরকারের উপদেষ্টা ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরকে বোকা বানিয়ে কার্য হাসিল করে চলেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম
ব্যক্তিরা হচ্ছেন ০৮/০৯/১৯৬৭ইং তারিখে ঝালকাঠিতে জন্মগ্রহণকারী (১) মোঃ আল আমিন ফয়সাল, ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ দুইটি প্রকল্প পরিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের এলজিইডি শাখার অর্থ সংগ্রহকারী ও যোগানদাতা হিসেবে খ্যাত। ২৫/০৯/১৯৬৭ইং তারিখে বগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী (২) আবুল বাছেদ মোহাম্মদ রেজাউল বারী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক, ০১/১২/১৯৬৭ইং তারিখে জামালপুরে জন্মগ্রহণকারী (৩) আবুল কালাম মোঃ ইসমত কিবরিয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য এবং ফ্যাসিস্টের মন্ত্রী মির্জা আজমের দোসরখ্যাত। ০৪/১২/১৯৬৭ইং তারিখে নড়াইলে জন্মগ্রহণকারী (৪) মোঃ শরিফ হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সদস্য ও কুমিল্লা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ পায়।
২৫/০৯/১৯৬৭ইং তারিখে ফরিদপুরে জন্মকারী (৫) মলয় কুমার চক্রবর্তী তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাদারীপুর ও প্রকল্প পরিচালক ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য,
(৬) সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সদস্য বিগত ১৫/০৯/১৯৬৭ইং তারিখে লক্ষীপুরে জন্মগ্রহণকারী (৭) মোঃ আজহারুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিলেট অঞ্চল, ৩০/০৯/১৯৬৮ইং তারিখে কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী (৮) মোঃ মোশারফ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনুর্ধ ১০০ মিটার সেতু ও সদস্য, (৯) স্বপন কুমার পাল, প্রকল্প পরিচালক, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও সদস্য (১০) আব্দুল বারেক মন্ডল, প্রকল্প পরিচালক, রাজশাহী বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প ও সদস্য, ৩১/১০/১৯৬৭ইং তারিখে চাঁদপুরে জন্মগ্রহণকারী (১১) শাহাদৎ হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, রাজশাহী অঞ্চল, সদস্য, (১২) মোঃ আঃ সাত্তার, প্রকল্প পরিচালক সদস্য। বিগত ২১/১২/১৯৭০ইং তারিখে পটুয়াখালীতে জন্মগ্রহণকারী (১৩) মোঃ রহুল আমীন খান, প্রকল্প পরিচালক, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩, সদস্য।
এই সকল কর্মকর্তাগণ পদোন্নতির তালিকায় আছেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়। এই ফ্যাসিস্টের কর্মকর্তাগণ পদোন্নতি পেলে অন্য ফ্যাসিস্টরা উৎসাহিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
কোনভাবেই যেন এই শহীদের রক্ত বৃথা না যায় সে দিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে আশু দৃষ্টি রাখতে হবে। ফ্যাসিস্টের ১৭ বৎসর যে সকল প্রকৌশলী সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে তার বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে।
এতগুলি তাজা প্রাণের রক্তের বিনিময়ের ফসল এই অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার যেন ফ্যাসিস্টের ষড়যন্ত্রের কারণে কাংখিত লক্ষ্যে পৌছতে ব্যর্থ না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। অন্যথায় রক্তের সাথে বেঈমানী করবে জাতি একদিন তাদেরও বিচারের মুখোমুখী দাড় করাবে বলে বিপ্লবী সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

