পিরোজপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের কলারন ৮নং ওয়ার্ডে একটি বসতঘরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ভুক্তভোগী মোঃ মিজানুর রহমান পেশায় একজন ডেন্টাল চিকিৎসক। তিনি বর্তমানে ঢাকার দনিয়া এলাকায় অবস্থিত ফেয়ার ডেন্টাল সার্জারীতে কর্মরত রয়েছেন এবং স্বপরিবারে ঢাকায় বসবাস করেন। বাড়িতে না থাকায় তিনি তার বসতঘরের চাবি দেখাশোনার দায়িত্ব বোনজামাতা মোঃ শাহ আলম মাঝীর কাছে রেখে যান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোঃ শাহ আলম মাঝী একটি পাতিল আনতে বসতঘরে গেলে ঘরের ভেতর সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে গত ১০ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি ভুক্তভোগীর ভাতিজা মাহিন হোসেনের সঙ্গে ঘরটি দেখতে গিয়ে দরজা খোলা ও ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে মোঃ মিজানুর রহমানকে জানানো হয়।
এরপর শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মোঃ মিজানুর রহমান নিজে বাড়িতে এসে দেখতে পান, অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২ ডিসেম্বর সকাল থেকে ১০ ডিসেম্বর সকালের মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে চুরির ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে, একটি পানির মোটর, ২৪ ইঞ্চির একটি এলইডি টিভি, গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার, এয়ার কুলার, চারটি চার্জার লাইট, একটি টেবিল ফ্যান, দুটি ডিনার সেট, পাঁচটি কম্বল, সাতটি বিছানার চাদর, চারটি মশারি, নয়টি এসএস টেপ কল, দশটি বাল্ব, পাঁচটি পুরাতন মোবাইল ফোন, এসএ-বিএস পর্চা ও দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের চারটি ফাইল, একটি মাটির ব্যাংক, সাতটি পাতিল, চারটি পুরাতন কাসা প্লেট, দুটি কাসার কলসি, একটি কাসার বাটি ও ২৪ ফুট এসএস পাইপ। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, আমার বোনজামাতা জানায় আমাদের বাড়িতে চুরি হয়েছে। খবর পেয়ে বাড়ি এসে দেখি বাসার পিছনের ভেন্টিলেটর ভেঙে আমাদের জমির গুরুত্ত্বপূর্ণ দলিল সহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং চোরদের শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

