বিশেষ প্রতিনিধি :
ভারতের তুরা কারাগারে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ছয়জন মৎস্যজীবী। বুধবার বিকেলে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকোগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এ সময় পুরো সীমান্ত এলাকা আবেগঘন দৃশ্যে পরিণত হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পর মুক্তিপ্রাপ্ত মৎস্যজীবীদের সীমান্ত সড়ক ধরে তাদের নিজ নিজ পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিজিবির নিরাপত্তা বজায় রেখে ছয়জন মৎস্যজীবী বন্দর পেরিয়েছেন; ক্লান্ত মুখের সঙ্গে ঘরে ফেরার স্বস্তি স্পষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয়জন মৎস্যজীবী জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো নদীতে মাছ ধরতে নেমেছিলেন। নদীর স্রোতে নৌকা ভেসে গিয়ে ভুলবশত ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) তাদের আটক করে। আদালতের আদেশে তাদের মেঘালয়ের তুরা কারাগারে রাখা হয়।
মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই নাকোগাঁও বন্দরে মানুষ ভিড় জমান। স্বজনরা দীর্ঘ সময়ের উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশার পর তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন। কেউ হাত ধরেন, কেউ কাঁদতে কাঁদতে বুকে জড়িয়ে ধরেন—এ দৃশ্য সীমান্তের ওপারে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ ফুটিয়ে তোলে।
বিজিবি ও ভারতীয় বিএসএফের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়জনকে হস্তান্তর করা হয়। পরে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের নিজ নিজ পরিবারে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
মৎস্যজীবীদের স্বজনদের চোখে স্বস্তির জল দেখা গেছে। একজন বাবা বলেন, “মনে হতো আর দেখতে পাবো না। আজ আল্লাহর রহমতে আমার ছেলেকে আবার বুকে জড়াতে পারছি।”
স্থানীয়রা বলেন, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে সীমান্ত এলাকায় কর্মজীবী মানুষদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

