কুড়িগ্রামের কেদার ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধনে ভয়াবহ অনিয়ম, ভোগান্তিতে অভিভাবকরা

0
149
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ১৪ নম্বর কেদার ইউনিয়ন পরিষদ / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ১৪ নম্বর কেদার ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধনে মারাত্মক অনিয়ম ও ভয়াবহ গড়মিলের অভিযোগ উঠেছে। ভুল জন্মতারিখ লিপিবদ্ধ করা, টিকা কার্ডের সঙ্গে জন্মনিবন্ধনের অসামঞ্জস্য, এমনকি ব্যক্তি উপস্থিত না থাকলেও জন্মনিবন্ধন প্রদান করার ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অভিভাবকরা। এসব অনিয়মের কারণে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেদার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক অভিভাবক জানান—তার সন্তানের টিকা কার্ড অনুযায়ী জন্মসাল ২০১৯ হলেও জন্মনিবন্ধনে তা ২০২৩ সাল হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জন্মসালের এই গড়মিলের কারণে সংশ্লিষ্ট শিশুটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না।

আরেক অভিভাবকের অভিযোগ, তার সন্তানের টিকা কার্ডে জন্মতারিখ ০৯/০৩/২০২২ উল্লেখ থাকলেও জন্মনিবন্ধনে তা পরিবর্তন করে ০৯/০৩/২০২৪ করা হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য ভুল তথ্য শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জন্মনিবন্ধনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কেদার ইউনিয়নে ব্যক্তি উপস্থিত না থাকলেও জন্মনিবন্ধন প্রদান করা হচ্ছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল বা তথ্যসেবা কেন্দ্র কেবল নামেই থাকলেও বাস্তবে জন্মনিবন্ধনের আবেদন ও কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তথ্যসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম ইউনিয়নের বাইরে পরিচালিত হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জন্মনিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে ভুল ও ভুয়া তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

তথ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে মোঃ মশিউর সফিউর রহমান বুলু-এর নাম উঠে এসেছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদে কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলে মোঃ আজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি আবেদনপত্র ও টাকা গ্রহণ করেন। সরকারি নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা হলেও কাজভেদে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, এমনকি কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত সঠিক জন্মতারিখে জন্মনিবন্ধন সংশোধন, সব ভুয়া ও ভুল নিবন্ধন বাতিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ভাষ্য, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় এমন অনিয়ম শিশুদের শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ বিষয়ে কেদার ইউনিয়নের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জন্মনিবন্ধনের আইডি সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মোঃ সবুজ আলীর নামে নিবন্ধন রয়েছে। তবে মোঃ সবুজ আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here