পৌষের হাঁড় হাপানো শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম: চরম দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ

0
205
পৌষের হাঁড় হাপানো শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে দিন দিন শীতের তীব্রতা বাড়ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও শিশিরভেজা রাত জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। কুড়িগ্রামের ১৬টি নদীর তীরে বিস্তৃত ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস রয়েছে।

এসব চরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা এখন শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় চরবাসীরা ঘরবন্দি হয়ে পড়ছেন, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর জানান, তার ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার।

এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে বসবাস করেন। ইউনিয়নের প্রায় ২০টি চরে বসবাসকারী আনুমানিক ১৬ হাজার মানুষ বর্তমানে তীব্র শীতের কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা হিসেবে মাত্র ১০০টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। শীতার্ত মানুষের সহায়তা দিতে গিয়ে তিনি চরম সংকটে পড়েছেন বলেও জানান।

শীতের বিরূপ প্রভাব পড়েছে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনেও। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। ফলে আয় বন্ধ হয়ে পরিবার নিয়ে তাদের দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়।

একই সঙ্গে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিকে কুড়িগ্রাম জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ উপজেলায় প্রায় ৫৪ লাখ টাকার কম্বল কিনে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে দুর্গম চরাঞ্চলের অনেক শীতার্ত মানুষের কাছে এখনো সরকারি শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে এই শীতে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে।

তিনি জানান, জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন সীমান্তঘেঁষা কালির আলগা চরের প্রায় ২০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে দ্রুত কম্বল বিতরণ করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here