আদালতের রায় পেয়েও জমি দখল নিয়ে শঙ্কা, নীলফামারীতে ৪০০ কলাগাছ ধ্বংসের অভিযোগ

0
208
আদালত থেকে রায়ের পরও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জমিতে লাগানো প্রায় চার’শ কলাগাছ ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে / ছবি - এই বাংলা

নীলফামারী প্রতিনিধি :

নীলফামারীতে আদালত থেকে জমির মালিকানা সংক্রান্ত রায় পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষের দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজস্ব জমিতে রোপণ করা প্রায় চার শতাধিক কলাগাছ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র সরকার (পিতা: দ্বীজেন্দ্র নাথ সরকার) এ ঘটনায় নীলফামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার জেএল নং–২৬-এর অন্তর্ভুক্ত ৩২ শতক জমির মালিক লিপি রানী সরকার। উক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দুলাল চন্দ্র শীল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে আদালতে দায়ের করা মামলায় (মামলা নং–৬৮/২০২১) নীলফামারীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত লিপি রানী সরকারের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন।

আদালতের রায়ের পর জমিতে কলাগাছ রোপণ করা হলেও গত ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে দুলাল চন্দ্র শীলসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমিতে প্রবেশ করে প্রায় ৪০০টি কলাগাছ কেটে ও ভেঙে ফেলে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে আনুমানিক দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানীর উপস্থিতিতে দুলাল চন্দ্র শীল, শান্ত শীল, সাগর শীল, নির্মল চন্দ্র সরকার, হিমাংশু চন্দ্র সরকার ও সুধাংশু সরকারের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার হুমকি দেন।

শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, “আদালতের রায় পাওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা জমিতে চাষাবাদ শুরু করি। কিন্তু প্রতিপক্ষ আদালতের রায় অমান্য করে জোরপূর্বক জমি নিজেদের বলে দাবি করছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি আরও জানান, একাধিকবার মুঠোফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, এ কারণে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে দুলাল চন্দ্র শীল বলেন, তিনি নিজের জমিই দখলে রেখেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো আদালত মামলার রায় নেই। তার দাবি, কার্তিক চন্দ্রের জমির সঙ্গে লিপি রানী সরকারের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলাম রব্বানী মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি জটিল, এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”

নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here