বকশীগঞ্জের নঈম মিয়ার হাটের মহিষের টক দই ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে

0
192
বকশীগঞ্জের নঈম মিয়ার হাটে মহিষের দুধের টক দইয়ের বাজার / ছবি - এই বাংলা

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় মহিষের দুধ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী ‘টক দই’ এখন স্থানীয় পরিচিতির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বকশীগঞ্জ উপজেলার নঈম মিয়ার হাটের মহিষের দুধের টক দই স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও প্রাকৃতিক প্রস্তুত প্রণালির কারণে ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ কাড়ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সপ্তাহে দুই দিন বসা নঈম মিয়ার হাটে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে দইপ্রেমী মানুষ ভিড় করেন। সব বয়সী মানুষের কাছে স্বাস্থ্যকর ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় এই টক দইয়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। হাটে টক দইয়ের বেচাকেনা সম্পূর্ণ ইজারামুক্ত হওয়ায় বিক্রেতারাও ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন।

এ অঞ্চলে মহিষ পালন দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত চর্চা। দুধের তুলনায় দইয়ের চাহিদা বেশি থাকায় অনেক কৃষক মহিষ লালন-পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। গ্রামীণ পরিবেশে নিজ বাড়িতেই মহিষ পালন করা হয় এবং চরাঞ্চল ও খোলা মাঠে চরানো হয়। এসব মহিষের দুধ মানসম্মত হওয়ায় দই তৈরিতে বিশেষ উপযোগী।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুধ দোহনের পর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা করে মাটির হাঁড়ি বা পাতিলে ঢাকনা দিয়ে ঘরের ভেতর রাখা হয়। কোনো ধরনের কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সনাতন পদ্ধতিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ টক দই।

আকারভেদে প্রতিটি পাত্রে ২ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত দই তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি দই তৈরিতে এক লিটারের কিছুটা বেশি দুধ লাগে। একটি মহিষ থেকে দৈনিক গড়ে ৪ থেকে ১০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি টক দই ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এই দই এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।

সারমারা টাকিপাড়া এলাকার দই বিক্রেতা দোজাহান ব্যাপারী জানান, মহিষের খাবার বাবদ প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয় এবং তিনি প্রতিটি হাটে ২০ থেকে ২৫ কেজি দই বিক্রি করেন। বাঙ্গালপাড়া এলাকার লোকমান বলেন, তার দুটি মহিষ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৩ লিটার দুধ পাওয়া যায় এবং সব দুধ দিয়েই তিনি দই তৈরি করে বাজারজাত করেন।

দই বিক্রেতারা মনে করেন, সরকারি সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলে মহিষ পালন ও টক দই উৎপাদন আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও মহিষ লালন-পালন ও আধুনিক পদ্ধতিতে দই উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ থেকে দই কিনতে আসা ক্রেতা লুৎফর রহমান বলেন, নঈম মিয়ার হাটের টক দইয়ের স্বাদ সত্যিই আলাদা এবং খুবই উপাদেয়।

মহিষের দুধের এই টক দই এখন শুধু একটি জনপ্রিয় খাবার নয়, বরং বকশীগঞ্জ অঞ্চলের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য টেকসই জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here