ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলায় শ্রীমন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ একর ১৭ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের জমিতে পাকাধান কেটে নেওয়া এবং পরদিন হাল চাষ করে দখলে নেওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ শ্রীমন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমিতে গত রোববার (১ ডিসেম্বর) আব্দুস ছালাম, আশরাফুল ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক লাঠিসোটা ও অস্ত্রসহ ধান কেটে নিয়ে যায়। পরদিন একই জমি চাষ করে নিজেদের দখলে নেয়।
জেলা প্রশাসনের আরএম শাখার নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে অন্য–৭১/২০১৩ নম্বর মামলায় ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট আদালত সরকার পক্ষের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী আপিলেও (অন্য আপিল ৩৬/২০২০) ২০২৫ সালের ২১ মে সেই রায় বহাল থাকে।
এ ঘটনার পর বিবাদীরা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন মামলা (নং ৩৫২১/২০২৫) করে। গত ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য জমির স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
এ পরিস্থিতিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে আদালতের নির্দেশ মানতে বলেন। কিন্তু চক্রটি নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় ধান কেটে নেয় বলে অভিযোগ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, “বিদ্যালয়ের সরকারি জমি জবরদখলের বিরুদ্ধে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”
ডিমলা থানার ওসি (চলতি দায়িত্ব) পরিতোষ চন্দ্র বর্ম জানান, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির বলেন, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কেউ পেশিশক্তি দেখালে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে বলেন, “জমি জবরদখলের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের কাছে শুনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “সরকারি বিদ্যালয়ের জমি জবরদখলের বিষয়টি গুরুতর। অতি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় জমি উদ্ধার করা হবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

