পিরোজপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাঠিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিন পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয়, জীবন-জীবিকা ও আশ্রয় চোখের সামনে বিলীন হয়ে যায়। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জাকির হোসেন রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত সাত্তার শেখের ছেলে। আগুনের খবর পেয়ে তিনি দৌড়ে এসে দেখেন তাঁর ঘর দাউদাউ করে জ্বলছে। শিশুর পড়ার টেবিল, পোশাক, আসবাব, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কোনো জিনিসই আর রক্ষা করা যায়নি। তিনি কেবল পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বের করতে সক্ষম হন।
এই ঘটনায় জাকির হোসেনের ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। পাশাপাশি তাঁর দুই চাচা—মোশারেফ শেখ ও সারোয়ার শেখের ঘরও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন পরিবারের মোট ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শীতের রাতে কোথায় আশ্রয় নেবে, কীভাবে আবার নতুন করে ঘর তুলবে—এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। খাদ্য, পোশাক ও আশ্রয়ের অভাবে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। স্থানীয়রা যে যা পারছেন সাহায্য করছেন, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
জাকির হোসেন বলেন, “আমার ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে যেতে দেখেছি। কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “ঘটনার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবেদন করলে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

