৪৫তম বিসিএসে জয়পাশার দুই মেধাবীর দৃষ্টান্ত স্থাপন

0
397
৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত দুই মেধাবী শাহরিয়ার শামসুল ও শাহনাজ সুলতানা / সমন্বিত ছবি - এই বাংলা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :


কুলাউড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী জয়পাশা গ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। দীর্ঘ ঐতিহ্য ও কৃতীত্বের ধারাবাহিকতায় এবার গ্রামটির সম্মান বাড়ালেন ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত দুই মেধাবী— পুলিশ ক্যাডারে শাহরিয়ার শামসুল ও পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে শাহনাজ সুলতানা। নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি পুরো জয়পাশা গ্রামের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শাহরিয়ার শামসুল – পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত: কুলাউড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের জয়পাশা গ্রামের মো. শহীদুল্লাহ ও নূর মহল বেগম দম্পতির বড় ছেলে শাহরিয়ার শামসুল এবার ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার পদে সুপারিশ পেয়েছেন।
মনুসর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলীমে জিপিএ–৫ অর্জন করে তিনি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও বিসিএসের স্বপ্ন ধরে রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যান। অবশেষে কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে তিনি সফলতা অর্জন করেন।

বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিক্রিয়ায় শাহরিয়ার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হবো। সততা ও আদর্শ নিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। পিতা-মাতা, স্ত্রী, ভাই-বোন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণা আমাকে এই অর্জনে সহায়তা করেছে।”

শাহনাজ সুলতানা – পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত: জয়পাশা গ্রামের প্রয়াত ব্যবসায়ী মো. ফজলুল হক ও গৃহিণী রানুয়ারা বেগম দম্পতির জ্যেষ্ঠ কন্যা শাহনাজ সুলতানা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী।                                                                                                                                           কুলাউড়া বলিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ও এমএসবিএ উভয় ডিগ্রি প্রথম বিভাগে সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে স্বপ্ন পূরণ হয় তার।

সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় শাহনাজ বলেন,
“আমার এই সাফল্যের পেছনে প্রয়াত বাবার স্বপ্ন ও মায়ের ত্যাগ সবচেয়ে বড় শক্তি। ভাই-বোন, স্বামী ও আত্মীয়দের অব্যাহত অনুপ্রেরণা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আল্লাহর রহমতে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই।”

তার পরিবারেও রয়েছে মেধার উজ্জ্বল উপস্থিতি— বড় ভাই রেজাউল করিম জনতা ব্যাংকের অফিসার, ছোট বোন জিনাত রেহানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, আর স্বামী গিয়াস উদ্দিন বাবু রূপালী ব্যাংকে কর্মরত।

জয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা ও কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন,
“জয়পাশা একটি আদর্শ গ্রাম। এ গ্রামের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। এবার ৪৫তম বিসিএসে শাহরিয়ার শামসুল ও শাহনাজ সুলতানার সাফল্যে এলাকার সুনাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সাফল্য কামনা করি।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here