অনুমোদনহীন কসাইঘরে পশু জবাই: নিয়ম না মানায় বাড়ছে রোগের আশঙ্কা

0
228
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অবাধে গরু-ছাগল জবাই: বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি / ছবি - ইন্টারনেট

স্টাফ রিপোর্টার :

জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ও কসাইঘরে পশুচিকিৎসকের অনুমোদন বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই প্রতিদিন গরু-ছাগল জবাই করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব স্থানে খোলা জায়গায় মাংস বিক্রি অব্যাহত থাকায় সাধারণ ক্রেতারা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়—শহরের প্রধান কাঁচাবাজার, বিভিন্ন মহল্লার কসাইঘর এবং রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানে নিয়মিতই পশু জবাই করা হচ্ছে। কিন্তু জবাইয়ের আগে পশুর রোগ শনাক্তকরণ বা ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট প্রদানের কোনো প্রক্রিয়া নেই। স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ এ কে এম ফরহাদ নোমান বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, ব্রুসেলোসিসসহ বিভিন্ন প্রাণিজ রোগ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত কসাইখানায় পরীক্ষা শেষে পশু জবাই করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না।

মাংস কিনতে আসা এক স্থানীয় ক্রেতা মোঃ ফরহাদ আলী বলেন, “মাংস কোথায় জবাই হচ্ছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে কি না—এসব আমরা জানতে পারি না। প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি করে, তাহলে ক্রেতারা নিরাপদ থাকবেন।”

এ বিষয়ে নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও জনবল সংকটের কারণে সব বাজারে সার্বক্ষণিক তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এক মাংস ব্যবসায়ী মোঃ পাপ্পু জানান, “স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গেলে সময় লাগে এবং অতিরিক্ত খরচ পড়ে। ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় দ্রুত মাংস বাজারে তুলতে হয়। তবে যদি পরীক্ষা–নীরিক্ষার ব্যবস্থা সহজ করা হয়, আমরাও নিয়ম মেনে কাজ করতে পারবো।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, “অপরীক্ষিত পশু জবাই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনুমোদিত কসাইখানায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। খুব শিগগির পৌরসভার আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন হবে, এরপর নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালিত হবে।”

নীলফামারী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শামসুল আলম জানান, “পশু জবাই ও মাংস বিক্রিতে সঠিক নিয়ম না মানলে জনস্বাস্থ্যের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস রাখা এবং খোলা জায়গায় ঝুলিয়ে না রাখার নির্দেশনা ব্যবসায়ীদের নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস জবাই ও বিক্রি হওয়ায় নিরাপদ মাংস পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। নিয়মিত নজরদারি ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীনভাবে পশু জবাই এবং অপরিষ্কার পরিবেশে মাংস বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা সম্পন্ন কসাইঘর থেকে মাংস কেনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here