চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানাধীন মদুনাঘাট এলাকায় ৭ অক্টোবর সংঘটিত ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম হত্যা মামলার তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি erzielt করেছে। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে নিহত হাকিম নিজ প্রাইভেটকারে হামিম এগ্রো ফার্মে যান। বিকেলে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে মোটরসাইকেলযোগে আসা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তার গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায়, ৩১ অক্টোবর রাউজান থানাধীন বাগোয়ান ইউনিয়ন থেকে মোঃ আব্দুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন) গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরবর্তী দিনগুলোতে মোঃ মারুফ, মোঃ সাকলাইন হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একনলা বন্দুক, এলজি, মোটরসাইকেলসহ বিপুল পরিমাণ গুলি ও ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ আব্দুল্লাহ খোকন, মোঃ মারুফ, জিয়াউর রহমান, মোঃ সাকলাইন হোসেন, মোঃ সাকিব এবং শাহেদ। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাউজান থানাধীন বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তৎপরতায় নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট, টহল, বিশেষ অভিযান এবং রাত্রীকালীন তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলেছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) এবং সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী। তার জানাযায় অংশ নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্যও আবেগপ্রবণ ছিলেন।

