বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

চার জেলার ২৯ বাঁওড়ে অভয়াশ্রম, মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্প প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার প্রাকৃতিক জলাভূমি বা বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বাঁওড় খনন, মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন এবং মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যতালিকা হালনাগাদসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এসব বাঁওড় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে পলি জমে জলাশয়ের গভীরতা কমে যাওয়া, প্রজননক্ষেত্রে পানির সংকট এবং ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সমবায় সমিতির সদস্যতালিকা দীর্ঘদিন হালনাগাদ না হওয়া এবং ইজারা ব্যবস্থায় প্রভাবশালী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য নব্বইয়ের দশকে গঠিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোর সদস্যতালিকা যাচাই ও হালনাগাদ করা। এর মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সমিতির ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা, জলমহালের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং লভ্যাংশ বণ্টনে কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বাঁওড়ের গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে নির্বাচিত অংশ খননের জন্য ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে ২৯টি বাঁওড়ে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার জন্য রাখা হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত পোনার সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যমান ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। খামার যান্ত্রিকীকরণে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ, পোনা সরবরাহ ও সম্প্রসারণসেবা জোরদার করার লক্ষ্যে ছয়টি বাঁওড় ব্যবস্থাপক অফিস ভবন পুনর্নির্মাণে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপনে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বাঁওড়গুলোতে রুইজাতীয় ও দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের তদারকি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি ডেস্কটপ, দুটি ল্যাপটপ, চারটি প্রিন্টার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনার খাতে আট লাখ টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন কমপক্ষে ১০ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। তাঁর মতে, উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বাড়তি উৎপাদন ও স্থায়ী আয়ের সুফল পেতে পারেন।

ড. মো. খালেদ কনক আরও জানান, প্রকল্পের উল্লেখিত ব্যয়গুলো প্রাথমিক প্রস্তাবনার অংশ। এখনো প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই সভায় অবকাঠামোগত উপযোগিতা, সরঞ্জামের বাজারদর ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের যৌক্তিকতা পর্যালোচনার পর প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর