রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি পিতা ও পুত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর রাতে মো. বোরহান উদ্দিন (৫৭) ও তাঁর ছেলে মো. উদয় আহমেদকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা মেসার্স ইউ আর মেরিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিত।
মেরিন সলভেজ এন্ট্রিক্স এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোক্তার হোসেনের দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বোরহান উদ্দিন ও মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে যৌথভাবে ব্যবসা করে আসছিলেন। তাঁদের ব্যবসার আওতায় জাহাজে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের লাইট ও অন্যান্য সামুদ্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এসব পণ্য দেশীয় ও বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক লেনদেন জড়িত ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহাজে ব্যবহারের উপযোগী লাইট ও অন্যান্য সামুদ্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের কথা বলে বোরহান উদ্দিন অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী। এতে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
বাদী মোক্তার হোসেনের দাবি, পণ্যের বিপরীতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পরও মালামাল বুঝে না পাওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, পণ্য সরবরাহে বিলম্বের কারণে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সময়মতো পণ্য সরবরাহ ও চুক্তির শর্ত পূরণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ পরিস্থিতি বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, বোরহান উদ্দিন ও উদয় আহমেদের গ্রেপ্তারের পর মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে আসামিপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।
এই বাংলা/এমএস