নীলফামারী প্রতিনিধি :
এক সময় জেলার ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত হাঁটাহাঁটি, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডিসহ বিভিন্ন খেলাধুলা ও ক্রীড়া আয়োজনে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু বর্তমানে মাঠের একাংশজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ এবং সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের একপাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান। চা, ফাস্টফুড, পান-সিগারেটসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। এসব দোকানের কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। যেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হতো, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট পিচের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বিকেলে অনুশীলনে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা দেখা যায়। একটি মাত্র ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে ভিড় ও সময় সংকট। অনেক খেলোয়াড় অনুশীলনের সুযোগ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দোকানগুলোর কারণে প্রতিদিন মাঠে প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নানা ধরনের বর্জ্য জমছে। এতে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাঠ দখল হয়ে থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় আব্দুস সালাম বাবলা বলেন, “এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ক্রিকেট খেলোয়াড় সোহাগ আলী বলেন, “আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোনো টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”
আরেক খেলোয়াড় নাজমুস সাকিব জুন বলেন, “বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।”
এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন, “অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
জেলার ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠকে দ্রুত অবৈধ দখলমুক্ত করে আবারও খেলাধুলা ও বিনোদনের উন্মুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। তাদের মতে, একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি একটি জেলার সুস্থ, সৃজনশীল ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।

