কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বাদাম ও সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতি কমাতে অনেক কৃষক আধাপাকা বাদাম পানির নিচ থেকে তুলে এনে সড়কে শুকানোর চেষ্টা করছেন।
চর খিতাবখাঁ গ্রামের কৃষক মো. এরশাদুল হক জানান, তিস্তা নদীর ভাঙনে নিজস্ব জমি হারিয়ে তিনি অন্যের জমি ইজারা নিয়ে বাদাম চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে পুরো ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব অবস্থায় বাদাম তুলতে হচ্ছে। তার আশঙ্কা, পর্যাপ্ত রোদ না পেলে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যাবে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির পর তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা আশা করলেও তা পর্যাপ্তভাবে পাননি। এদিকে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সবজির বীজ বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্যা মোকাবিলা, আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা সম্পর্কিত তথ্য ও ত্রাণসামগ্রী বেশি প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুর রশীদ বলেন, নদীর পানি দ্রুত বাড়ায় মানুষ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এ সময় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিলা তাসনিম বলেন, সবজির বীজ বিতরণ কৃষি বিভাগের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ এবং তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ফসলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাদাম দীর্ঘ সময় পানির নিচে না রেখে দ্রুত তুলে ফেলতে হবে। পরে ডাল থেকে আলাদা করে পাতলা করে রোদে বা বাতাস চলাচল করে এমন শুকনো স্থানে ছড়িয়ে শুকাতে হবে, যাতে পচন ও অঙ্কুরোদ্গমের ঝুঁকি কমে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুধকুমার নদীর পানি এখনও পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষ এখনো বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

